নন্দীগ্রামে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি দুই রাজনীতিক দলই বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে হামলার ঘটনার নিন্দা করা হয়েছে। আর বিজেপি জানিয়েছে ঘটনার সত্যতা জানতে অবিলম্বে প্রকাশ করা হোক ভিডিও ফিটেজ। 

আগেই তৃণমূল কংগ্রেস নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন নন্দীগ্রামে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের ওপর হামলার ঘটনার নালিশ জানাতে নির্বাচন কমিশনে যাবেন তাঁরা। সেইমত বৃস্পতিবার সকালে তৃণমূলের মুখপাত্র ডেরেক ও'ব্রায়ন, রাজ্যের দুই মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হন। নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনার বিরুদ্ধে তাঁরা অভিযোগ জানিয়েছেন। তৃণমূলের মুখপাত্র ডেরেক ও'ব্রায়ন জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের অবিলম্বে সামনে আনাটা জরুরি। কিন্তু হামলার ঘটনার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই যে জাতীয় মন্তব্য করা হয়েছে তা অত্যান্ত নিন্দনীয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। তৃণমূলের পক্ষ থেকে তার নিন্দা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডেরেক বলেন, বিষয়টি নিয়ে একই সঙ্গে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি কী হয়েছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজনীয় বলেও মনে করেছে। 

অন্যদিকে ভোট যুদ্ধে পিছিয়ে থাকতে নারাজ বিজেপি। এদিন বিজেপিও নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হন। সূত্রের খবর,  বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়া ও সব্যসাচি দত্ত নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে হামলার ঘটনার তদন্তের দাবি করেছেন। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে সব্যসাচি দত্ত বলেন, ঘটনার সময় তোলা ভিডিও ক্লিপিং অবিলম্বে প্রকাশ করা হোক। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর ওপর হামলার ঘটনা রীতিমত হতভম্ব। সব্যসাচী দত্ত যেসময় এই ঘটনা ঘটেছে সেই সময় সংবাদ মাধ্যমের লোকজন উপস্থিত ছিল। তাদের থেকেও প্রয়োজনীয় ফুটেজ সংগ্রহ করা জরুরি বলেও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সব্যসাচী দত্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্রুত  আরোগ্য কামনা করেছেন।

অন্যদিকে বিজেপি নেতা ও রাজ্যের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় জানিয়েছেন, নন্দীগ্রামের ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করছে তৃণমূল। তবে এজাতীয় ঘটনা নিয়ে রাজনীতি না করাই শ্রেয়। তিনি আরও বলেন রাজ্যে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে নির্বাচন কমিশন। প্রয়োজনীয় কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বিজেপি প্রথম থেকেই হামলার ঘটনার তদন্তের দাবি করেছিল।  আক্রান্ত হওয়ার পরেই মমতা গোটা ঘটনায় দায়ি বিজেপির ঘাড়ে চাপাতে চাইছিলেন বলে অভিযোগ তুলেছে। মমতা বলেছিলেন প্রবল ভিড়ের মধ্যে চার থেকে পাঁচ তাঁকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। এই ঘটনার বিজেপির নাম জড়িয়ে যাওয়ার পর থেকেই গোটা ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে বিজেপি।