West Bengal Assembly Election 2026: পশ্চিমবঙ্গের ভোটের রাজনীতিতে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন জাতি আর সম্প্রদায়ের ভোটাররা। মুসলিম থেকে শুরু করে তফসিলি জাতি- সকলেরই গুরুত্ব বিশেষ। আসুন দেখুন এবার কাদের ওপর নির্ভর করবে নির্বাচনে জয়। 

ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হয়েছে । প্রার্থী তালিকাও প্রকাশ করেছে একাধিক রাজনৈতিক দল। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে সবথেকে বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে রাজ্যে ভোটের ফলাফল কোনও বিশেষ জাতি বা সম্প্রদায়ের ওপর নির্ভর করছে। কারণ বঙ্গে শুধুমাত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বাস নয়। একাধিক জাতি ও জনজাতির মানুষ বাস করেন এই রাজ্যে।

পশ্চিমবঙ্গে ভোট

আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে ভোট গ্রহণ হবে। ফল প্রকাশ করা হবে আগামী ৪ মে। ভোট প্রক্রিয়া শেষ হবে আগামী ৬ মে।

পশ্চিমবঙ্গে ভোটে সম্প্রদায়ের প্রভাব

বর্তমানে বঙ্গে ভোট রাজনীতিতে সবথেকে গুরুত্ব হয়ে উঠেছে মুসলিম সম্প্রদায় আর তফসিলি জাতি ও উপজাতির ভোটাররা। 

তফসিলি জাতি

এই রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ২৩.৫ শতাংশই তফসিলি জাতির মানুষ। ফলে তারা বাংলার অন্যতম শক্তিশালী ভোটার। কিছু কিছু এলাকায় তারা বিশেষভাবে শক্তিশালী। কারণ বিশেষজ্ঞদের কথায় ১২০টি বিধানসভা আসন নির্ভর করছে তফসিলি জাতির বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভোটারদের ওপর। তবে, বাংলার তফসিলি জাতি জনগোষ্ঠী সবাই একরকম নয়। রাজবংশী, নমশূদ্র, বাগড়ি, বৌরি এবং পদ পৌণ্ড্রের মতো উপজাতি রয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলির প্রত্যেকটির নিজস্ব ইতিহাস রয়েছে এবং রাজ্যের বিভিন্ন অংশে এদের দেখা মেলে।

বঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস বাম জমানার পতনের পর থেকে বরাবরই এই তফসিলি জাতির পূর্ণ সমর্থন পেয়ে এসেছে। এবার তফসিলি জাতির মন কোন দিকে যাবে সেটাই দেখার।

মুসলিম সম্প্রদায়

পশ্চিমবঙ্গে মোট জনসংখ্যার ২৭-২৮ শতাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের বাস। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু হলেও মুসলিমরা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই কারণে বঙ্গ রাজনীতিতে মুসলিমদের একটা গুরুত্ব রয়েছে। মুর্শিদাবাদ, মালদা তো বটেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রার্থীদের অনেকাংশের ভাগ্য মুসলিম ভোটারদের ওপর নির্ভর করেছে। আর সেই কারণেই বঙ্গ রাজনীতিতে মুসলিমদের একটা গুরুত্ব রয়েছে।

প্রার্থী বাছাই

সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আর তফসিলি জাতির কথা মাথায় রেখেই বাম থেকে শুরু করে বিজেপি সকলেই প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সব দলই এই কথা মাথায় রাখে। আধা শহুরে এলাকাগুলিতে ব্রাহ্মণ, কায়স্থ,বৈদ্যদের মত উচ্চবর্ণের গোষ্ঠীগুলির পাশাপাশি সদগোপ প্রার্থীদের গুরুত্ব থাকে। আর বাকি রাজ্যে যে এলাকায় যে সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা বেশি সেখানে সেই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদেরই প্রার্থী করে রাজনৈতিক দলগুলি। এবারও রাজনৈতিক দলদুলি সেই অঙ্ক কষেই প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে। এবার দেখা যায় কোন দল শেষ হাসি হাসে।