খড়গপুরের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফর নিয়ে চড়া সুরেই সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এখানে ভোট চলছেআর উনি বাংলাদেশে গিয়ে বাংলায় বক্তৃতা করছেন। এটিতে সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ৫০ তম বছরের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দুদিনের সফরে সেখানে গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। পশ্চিমবাংলায় বিধানসভা ভোট চলাকালীন মোদীর বাংলাদেশ সফর নিয়ে রীতিমত কটাক্ষ করেন তৃণমূল নেত্রী। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কখন কখনও বিজেপি বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশ থেকে মানুষ এদেশে নিয়ে এসেছে। তবে এখন 'উনি' বিজেপির ভোট ব্যাঙ্ক বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদশে যাচ্ছেন।  কথা প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যা তুলে আনেন ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ। সেই সময় বাংলাদেশের অভিনেতা ফৌরদৌস ও গাজী আব্দলু নূর তৃণমূলের প্রচারে সামিল হয়েছিলে। এই অভিযোগ তুলে তাদের   ভিসা কেন্দ্রীয় সরকার বাতিল করে দিয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন এখন প্রধানমন্ত্রী বাংলার ভোটের লক্ষ্যে বাংলাদেশে গেছেন। বাংলাদেশের অভিনেতাদের ভিসা পাসপোর্ট যদি বাতিল হয় তাহলে প্রধানমন্ত্রীরটাই বা হবে না কেন?  নির্বাচন কমিশনের কাছে তৃণমূল  কংগ্রেস নালিশ ঠুকবে বলেও  জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন আগেও এজাতীয় কাজ করেছেন নরেন্দ্র মোদী । আগেই ট্রাম্পের সমর্থনে ভোট চেয়েছিলেন তিনি। যা গরহিত কাজ বলেও জনসভা থেকে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

কে প্রলয় পাল,যাকে ফোন করে সাহায্য চাইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, জানুন নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতাকে ...

মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে সত্যাগ্রহে সামিল হয়ে জেলে গিয়েছিলেন, ঢাকায় বললেন নরেন্দ্র মোদী ...

শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশের মতুয়া ধামে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক আধিকারিকরা। তিনি ওরাকান্দিতে মতুয়াদের প্রায় তিনশো প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে খুশি বলেও জানিয়েছেন মতুয়া প্রতিনিধিরা। যা নিয়েই খড়গপুরের জনসভা থেকে তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে দে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চলতি বিধানসভা নির্বাচনে মতুয়া-ভোটব্যাঙ্ক একটি ফ্যাক্টর। বিজেপি মতুয়া ভোট ব্যাঙ্ককে টার্গেট করেছেন। সরকারে এলে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই হিন্দু শারণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদানের বিষয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে ইস্তাহারে। সেই কারণেই মমতা বাংলাদেশে মতুয়াদের সঙ্গে মোদীর বৈঠক নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন খড়গপুরের নির্বাচনী প্রচার থেকে।