'আপনারা নিশ্চিন্তে থাকবেন, আমি আপনাদের পাহারাদার, আমি থাকতে বাংলার কারও গায়ে হাত দিতে দেব না'- গোয়ালতোড়ে বললেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্রের টিএমসি প্রার্থী উত্তরা সিংহ হাজরা ও শালবনী বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী শ্রীকান্ত মাহাত-র সমর্থনে প্রচারে হাজির হয়েছিলেন নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ৷ গোয়ালতোড়ের আমলাশুলি তে একটি মাঠে সমাবেশ করতে হাজির হয়েছিলেন ৷ প্রায় ২৫ মিনিট বক্তব্য রেখে সাধারন মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি ৷ 

 

 

এদিন তিনি বলেন- এটা দিল্লির নির্বাচন নয়, নরেন্দ্র মোদির নির্বাচন নয়। বিজেপির নির্বাচন নয়, এটা বাংলার নির্বাচন। এই নির্বাচনে আপনারা যদি চান আমি থাকি, তাহলে আমার প্রার্থীদের ভোট দিলে আমি সরকার গঠন করতে পারব। তাই আমার পক্ষ থেকে এরা ভোটে দাঁড়িয়েছে। আপনারা দয়া করে এদেরকে ভোটটা দেবেন। এই এলাকায় একসময় মাওবাদী সন্ত্রাসে পর্যদুস্ত হয়ে গিয়েছিল। তারপর থেকে আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসে। আমরা শান্তি ফিরিয়ে এনেছি। জঙ্গলমহলে আগে বছরে ৩০০ বেশি মানুষ খুন হত। এখন এসব হয় না। গড়বেতা আলু চাষের প্রাণকেন্দ্র।এই আলুচাষিরা যখন সমস্যায় পড়ে তখন তাদের সম্পূর্ণভাবে আমি সাহায্য করে দিই।

 

 

একটাই কারণে আমি ছুটে এসেছি। ঘরের দুয়ারে যদি সাপ লুকিয়ে থাকে। যদি বাঘ এসে হানা দেয়। মনে রাখতে হবে তাকে হানা দিতে সুযোগ দেওয়া যাবে না। তাই ওদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী হয়ে রাস্তায় নামতে হবে।এখন একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। আমাদের সরকার আসলে এখানে যত তপশিলি পরিবার রয়েছে তাদের সবাইকে এক হাজার টাকা করে মাসে হাত খরচা দেবো আমরা। সমস্ত সম্প্রদায়ের মহিলাদের মাসে ৫০০ টাকা করে হাতখরচ দেওয়া হবে। এটা একটা প্রকল্প তৈরি করা হবে।কৃষক বন্ধু প্রকল্পের যারা ৫০০০ টাকা করে পাচ্ছিলেন, মে মাস থেকে 6 হাজার টাকা করে পাবেন। আগামী দিনে আমাদের সরকার এলে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

 

 

আমফানের দুর্যোগের সময় বিজেপি পার্টি কোথায় ছিল বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ওই সময় মানুষের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এক দুটো বিষয়ে একটু আধটু ভুলভাল হতে পারে, কিন্তু হাজার হাজার কোটি টাকা আমরা দিয়েছি আম্ফানে ক্ষতির সময়। কোথায় ছিলেন তখন নরেন্দ্র মোদি? কোথাও কেউ ছিলনা। নির্বাচন এলে তোমরা ক্যাশ নিয়ে বেরিয়ে পড়ো। মিথ্যে কথার গ্যাস বেলুন, নির্বাচনের সময় ক্যাশ বেলুন। হর্স ট্রেডিংয়ে হোস পাইপের মত টাকা বিলি করে।

 

 

এখন বাংলাতে যত হোটেল সব বুক। একশোটা ফ্লাইট ভাড়া করেছে। কত হেলিকপ্টার তার ঠিক নেই। কয়েক হাজার নেতা বাইরে থেকে এসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ভোট লুট করার স্বপ্ন দেখছেন। এই লুটেরা বাহিনী এলে হাতা খুন্তি নিয়ে তেড়ে যাবেন। জানিয়ে দেবেন-আমরা অনেক সিপিআইএমের ক্যাডার দেখেছি। অনেক নর কঙ্কাল দেখেছি। আমরা সুশান্ত ঘোষ ও তপন ঘোষ দের দেখেছি। সেই সিপিআইএমের হার্মাদ গুলো বিজেপিতে গেছে। তারাই এখন বিজেপির ওস্তাদ হয়েছে। সেই পচা সিপিএম এখন পচা বিজেপি হয়েছে।

 

 

রাজ্যের ৪০ শতাংশ বেকার সমস্যা আমরা কমিয়ে দিয়েছি। আগামী দিনে বাংলায় লক্ষ লক্ষ টাকার প্রোজেক্ট হচ্ছে। শিল্প হচ্ছে।চিন্তা করবেন না সবার যাতে চাকরি হয় এখানে তার ব্যবস্থা করব। কমপক্ষে অর্ধেক বেকার সমস্যা কমিয়ে দেব। সারা দেশজুড়ে ৪০ শতাংশ বেকার সমস্যা বেড়েছে। দারিদ্রতা কমেছে এই রাজ্যে। যতখানি পেরেছি করেছি। নিশ্চিন্তে থাকবেন বাংলার মানুষ। আমরা থাকতে আমি আপনাদের পাহারাদার।ভারতবর্ষে অনেক রাজ্যে এন পি আর এর কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু এই রাজ্য করতে দেয়নি।আমরা একটা পরিবার কেউ এই রাজ্য থেকে সরাতে দেবোনা। কোন পরিবারের গায়ে হাত দিতে দেব না।