ব্যবধান সাত দিনেরও কম। তার মধ্যে দ্বিতীয়বার রাজ্যের মুখ্যসচিব ও ডিজিপি-কে জরুরি ভিত্তিতে তলব করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি ও তার অবনতি নিয়ে আজ সন্ধে সাড়ে পাঁচটায় বৈঠক ডাকা হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সচিবের পক্ষ থেকে। বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে। তারপরই আজ বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ফের কেন্দ্র-রাজ্য তরজা চরমে উঠবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। 

এই প্রথম নয় গত ১৪ তরিখও রাজ্যের মুখ্যসচিব ও ডিজিপি তলব করেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। রাজ্য সফরে এসে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা সহ বিজেপির অন্যান্য নেতাদের উপর যে হামলা হয়েছিল, তা নিয়ে  প্রশ্ন তুলেছিল রাজ্য বিজেপি। এ ব্যাপারে রাজ্যপালের কাছেও ওই  হামলা সম্পর্কে রিপোর্ট চাওয়া হয় কেন্দ্রের তরফে। রাজ্যপাল রিপোর্ট পাওয়ার পরই,রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ্যের ডিজি ও মুখ্যসচিবকে ১৪ তারিখ তলব করেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। মুখ্যসচিবের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি দীর্ঘ চিঠিতে রাজ্য সরকার জে পি নাড্ডার সফরে তাদের দায়িত্ব, ভূমিকা ও হামলা-পরবর্তী তদন্তমূলক কাজকর্মের বিস্তারিত খতিয়ান ব্যাখ্যা করে। এবং চিঠির একেবারে শেষে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়, যেহেতু রাজ্য সরকার গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে, ফলে মিটিংয়ে 'স্টেট অফিসিয়ালস'দের নিয়ে কেন্দ্রের বসাটা এই মুহূর্তে নিষ্প্রয়োজন। পাশাপাশি এই ঘটনা রাজনৈতিক হিংসা চরিতার্থ করার জন্যই বলে অভিযোগ করা হয় তৃণমূলের পক্ষ থেকে।

১৪ তারিখের বৈঠকে উপস্থিত না হওয়ার পর কেন্দ্রের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কিন্তু বিজেপি সহ রাজ্যের অন্যান্য সব বিরোধী দল বারবার অভিযোগ করেছে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলার অবনতির বিষয়ে। একইসঙ্গে রাজ্যের রাজ্যপালও একাধিকবার রাজ্য সরকারকে আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে একহাত নিয়েছেন। রাজ্য সরকারকে তার কর্তব্যও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। রাজ্যপালের এক্তিয়ারের কথাও বলেছেন। এই পরিস্থিতি আজ ফের কেন্দ্রীয় স্বারাষ্ট্র মন্ত্রকের রাজ্যের ডিজিপি ও মুখ্যসচিবকে তলবের ঘটনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রৈজনৈতিক মহল।