শুভেন্দু অধিকারি থেকে শুরু করে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়- তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন ধরেই একের পর এক হেভিওয়েট নেতা যোগ দিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে। কিন্তু এখন আর নয়। আপাতত গণযোগদান প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেই জানিয়েছে এক বর্ষিয়ান বিজেপি নেতা। রাজ্যের পর্যবেক্ষক ও বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় জানিয়েছেন এখন থেকে আর স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনার পরই বাছাই করে দলে যোগদানের ব্যবস্থা করা হবে। 

সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কৈলাশ বিজয়বর্গীয় বলেছেন যে তাঁরা চান না যে বিজেপি টিএমসি-র বি-টিমে পরিণত হোক। এমন মানুষকে  তাঁরা চান না যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাই এখন থেকে গণহারে বিজেপিতে যোগদানের পথ থেকে তাঁরা বিরত থাকছে। এখন থেকে নির্বাচিত ও বাছাইয়ের মাধ্যমে দলে যোগদান করানো হবে বলেও জানিয়েছেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। 

বিজেপি নেতা আরও বলেছেন, অনেক ক্ষেত্রেই এই  দলবদলকে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব ভালোভাবে নিচ্ছে না। এর ফলে দলের নিচুস্তরে সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বিজেপি বর্তমানে অন্যদলের নেতা ও কর্মীদের নিয়েই কাজ করছে। এই প্রক্রিয়াটির পরিবর্তন চান বলেও জানিয়েছেন তিনি। দলবদলুদের ক্ষেত্রে এবার এ থেকে একটি প্যারামিটার কার্যকর করা হবে। যেখানে গুরুত্ব দেওয়া হবে জনগণের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নেতা বা কর্মীর ইমেজ কেমন। বিষয়টি চূড়ান্ত করবে কেন্দ্র ও রাজ্য নেতৃত্ব।  জেলাস্তরের নেতাদেরও আপত্তি রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। 


দুর্ণীতির অভিযোগ রয়েছে এমন কয়েক জন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বিজেপিতে যোগদান করেছেন গতবছরে। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে এপর্যন্ত ১৮ জন বিধায়ক, ১ তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ ও সিপিএম ও কংগ্রেসের তিন জন বিঝায়ক ও সিপিআই-এর এক জন বিধায়ক বিজেপিতে যোগদান করেছে। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া আর কেউই বিধানসভা থেকে পদত্যাগ করেননি। যা নিয়ে কিছুটা হলেও উষ্মা প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায় বলেছেন, বিজেপির বাংলায় কোনও নেতা নেই। তাই অন্যান্য দল থেকে নেতা ভাঙিয়ে নিয়ে আসতে হচ্ছে। আগামী এপ্রিম -মে-তেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগে কৈলাশ বিজয়বর্গীয় এই মন্তব্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।