৬ এপ্রিল তৃতীয় দফার ভোট গ্রহণ হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। হুগলি, হাওড়া, এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কয়েকটি অংশে ভোট হবে। দক্ষিণ ২৪ পরগণার ১৬টি, হাওড়ার
 ৭টি এবং হুগলীর ৮টি -মোট ৩১ বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে। এই আসনগুলির বেশিরভাগই ২০১১ সালে বাম জমানার পতনের পর থেকে কি স্থানীয় স্তরের কি জাতীয় স্তরের - সব নির্বাচনেই তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করেছে।

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই ৩১টি আসনের ২৯টিতেই জয়ী হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মাত্র দুটি আসনে জিতেছিল বাম-কংগ্রেস জোট। তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল এই আসনগুলিতে। আর বাম-কং জোটের ভাগে গিয়েছিল ৩৭ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে বিজেপিপেয়েছিল মাত্র ৭ শতাংশ ভোট। অন্যান্যদের ঝুলিতে যায় বাকি ৬ শতাংশ।

এই রাজ্যে বিজেপি প্রথম একটি বড় শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হয় ২০১৯ সালে। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয়ী হয় তারা। তৃতীয় দফার ৩১টিআসনেও বিজেপির ভোট প্রাপ্তির হারে দারুণ উন্নতি ঘটে। বিজেপি ৩৭ শতাংশ ভোট পায়, যেখানে বাম-কং জোটের ভোট নেমে আসে ৮.৩৩ শতাংশে। এই দারুণ ভোট প্রাপ্তির পরও বিজেপি শুধুমাত্র হুগলি জেলার পুরশুড়া এবং গোঘাট আসন দুটি ছাড়া, ৩১ টি আসনের কোনওটিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে টেক্কাদিতে পারেনি।

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই আসনদগুলিতে, তার রেকর্ড অক্ষুণ্ণ রাখতে পেরেছিল। ২০১৬ সালের মতো ২০১৯-এও ২৯টি  আসনেই তারা এগিয়ে ছিল। ভোট প্রাপ্তির শতাংশ হার যদিও সামান্য কমেছিল।

তবে বাম-কং জোটের পক্ষে এই দফায় ট্রাম্প কার্ড হয়ে উঠতে পারেন আব্বাস। এই দফার৩১টি আসনের প্রত্যেকটিতেই তাঁর কমবেশি প্রভাব আছে। তা সংযুক্ত মোর্চার ঘরে আসন যদি এনে নাও দেয়, তৃণমূলের বাড়াভাতে ছাই ফেলতে পারে অনেক জায়গাতেই।
   
তৃতীয় দফার নির্বাচনে ৩১ আসনে মোট ২১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে ৩১ জন করে প্রার্থী দিয়েছে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস। সিপিএম প্রার্থী রয়েছেন ১৩ জন, কংগ্রেসের ৭ জন আর আইএসএফ দলের পক্ষ থেকে ১১ জন প্রার্থী লড়বেন।