ভোটের মাঝেই মোদীর 'ও দিদি -দিদি' ভাইরাল। এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে, সেটা আবার বাংলার ঘরে ঘরে বাচ্চারাও তা নকল করে সোস্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বানিয়ে ছেড়েছে। এহেন হাড্ডা হাড্ডি লড়াইয়ের নির্বাচনের সফরে  'ও দিদি -দিদি' যে পদ্ম ফুলে ভরিয়ে দেবে বাংলা, এমনই চাপান উতোর রাজনৈতিক মহলেও।

আরও পড়ুন, বারাসাত অবধি কি AC মেট্রোয় বাড়ি ফিরতে চান, আজই বড় বার্তা দিলেন মোদী 

 

মোদী এদিন একটি ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে বলেছেন, 'আমি তো অবাক হয়ে গিয়েছি। আমাকে বাংলার কেউ একজন হোয়াটস্অ্য়াপে ভিডিও  পাঠিয়েছেন। যেখানে অসংখ্য বাচ্চা , কেউ তিন বছরের, কেউ চার বছরের, কেউবা আবার পাঁচ বছরের-যারা প্রত্যেকেই নিজে নিজে ভিডিওতে বলছে-দিদি ও দিদি। বাংলার প্রতিটা ঘরের বাচ্চা দিদি ও দিদি বলা শুরু করে দিয়েছে।' 

#didi_o_didi #Didiodidi #WestBengalElections2021 #WestBengalPolls #KhelaShesh #PrashantKishoreleaks #Modiwave #ModijiSiliguri My Daughter ☺️ pic.twitter.com/trNkXiEopY

এদিকে দিদি ও দিদি তৃণমূলের সুস্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলেছে এতটাই, যে সম্প্রতি তৃণমূল নেত্রী শশী পাঁজা, জুন মালিয়া সহ অন্য়োনা চক্রবর্তী তৃণমূল ভবনে রীতিমতো সাংবাদিক বৈঠক করে ফেলেছেন। শশী পাঁজা বলেছেন, 'মমতাকে অপমান করেছেন মোদী। মহিলাদের অপমান করছেন প্রধানমন্ত্রী।' অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী জুন মালিয়া বলেছেন, 'শুধুমাত্র তৃণমূল নেত্রীকে অপমান করা হয়নি বাংলার, সমস্ত মহিলাদের অপমান করা হয়েছে। তৃণমূল নেত্রীর হাত ধরেই গত ১০ বছরে নারীশক্তির উত্থান হয়েছে। এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মহিলাদের প্রতিটি পদক্ষেপেই অনেক কিছুর মুখোমুখি হতে হয়। চরিত্রের বিশ্লেষণ তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।' অনন্যা চক্রবর্তী বলেছেন, 'প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমরা এমন একজনকে পেয়েছি যাঁর মহিলাদের প্রতি কোনও সম্মান নেই। এমনকি মোদীর বিবাহিত জীবনেও সেটা স্পষ্ট। তিনি বিবাহিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন না নির্বাচনী ফর্মে। একটি রাজ্যে এসে সেখানকার নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি যেভাবে কথা বলছেন, যেভাবে টোন কেটে কথা বলছেন তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং চিন্তার বিষয়।'

আরও পড়ুন, 'মারা গেলেই পাবেন টাকা', রানাঘাটে মমতার প্রচার শুনে শিউরে উঠল কি শীতলকুচিবাসী 

তবে ভোটের মাঝে যতোই তৃণমূলের প্রার্থী-কর্মীরা নারী সম্মানকে ঢাল বানিয়ে ভোট যুদ্ধ জয়ের মোহরা বানাক, কার্যত তা মুখ থুবড়ে পড়ে দিলীপের প্রতিক্রিয়ায়। যদিও কবর সরিয়ে উঠে আসতে চায়-তৃণমূল সরকার চলাকালীন ২০১৩ এর কামদুনি গণধর্ষণ ও খুন,  ২০১৫ সালে রানাঘাটের কান্ধামাল ধর্ষণ অর্থাৎ যেখানে এক ৭১ বছর বয়সী ক্য়াথোলিক নানকে ধর্ষণ করা হয়। তারপর একদিকে কয়লাকাণ্ড-গরুপাচার চক্রকাণ্ডে পিসি-ভাইপোকে নিয়ে টানাটানি অন্যদিকে ঝড় গিয়েও মমতার সরকারে ত্রিপল চুরি -চালচুরির প্রভাব ফেলে রেখে গিয়েছে। আর তার পর যদি ৪০ ছুঁইছুঁই ফাঁটা গরমে নীলবাড়ির এসি থেকে বেরিয়ে এসে হুইলচেয়ারে বসে 'দিদি ও দিদি' শুনতে হয়, তাতে যে মেজাজের ঠিকানা থাকে না, সেনিয়ে গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলেও। তাই ডিজে মিক্সিং করে যতোই টলিউডের সেরা মুখকে প্রার্থী বানিয়ে খেলা হবে -'খেলা হবে' চলুক, সেসবকে হার মানিয়ে দিব্য়ি ঘরে ঘরে বাচ্চাদের মুখে দিদি ও দিদি ছড়িয়ে পড়ার ভিডিও অনেক বেশি ভাইরাল।