দিদি হারছেনই। ফের একবার কোচবিহারের সভা থেকে জোর দিয়ে বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার জিজ্ঞেস করছেন নির্বাচনের ফল তিনি কীকরে জেনে গেলেন? তিনি কি ভগবান? মোদী বলেন, তিননি ভগবান নন। ভোটের ল বলে দেয় জনতা-জনার্দন। আর এই ক্ষেত্রে তো 'দিদি'র হারের বেশ কয়েকটি লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। কী কী বিষয় উল্লেখ করলেন তিনি?

১. মোদী বলেন, প্রথমত বিজেপির সভায় এত লোক হচ্ছে, শুধু সভা নয়, তাঁর আসার পথেও দুইধারে এত মানুষ অপেক্ষা করছেন তা থেকেই জনতা জনার্দনের মনের কথা বোঝা যাচ্ছে।

২. দিদির মেজাজ, ব্যবহার, গালি দেওয়াতে তাঁর হারের লক্ষণ স্পষ্ট। মোদী বলেন, রাজ্যে প্রথম দুই দফায় এত ভোট পড়েছে, এত ভাল ভোট হয়েছে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হলে গর্ব করে বলতেন, রাজ্যে রেকর্ড ভোট হয়েছে। কিনতু মমতা তার বদলে অভিযোগ করতই ব্যস্ত।

৩. এছাড়া রয়েছে ইভিএম, কেন্দ্রীয় বাহিনী, এবং নির্বাচন কমিশন-কে গালি দেওয়া। এর আগের নির্বাচনী সফরেই মোদী বলেছিলেন খেলায় কেউ আম্পায়ারকে নিয়ে বেশি প্রশ্ন তুললে বোঝা যায় সে হারতে চলেছে। এদিনও তিনি বলেন, যে ইভিএম মমতাকে বাম জমানার পতন ঘটাতে সহায়তা করেছিল, আগে নির্বাচন যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে করতে চাইতেন, সেই ইভিএম ও বাহিনীকেই এখম গালি দিচ্ছেন মমতা।

৪. মোদী আরও বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-নেত্রীরাই বলছেন মমতা বারানসীতে লড়বেন। যদি নিজের হার নিয়ে মমতা নিশ্চিত না হন, তাহলে বাংলা ছেড়ে বাইরে গিয়ে  লড়ার কথা এল কেন তাঁর বা তাঁর দলের লোকজনদের মাথায়?

৫. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  যে প্রত্যেক সভায় সভায় বলছেন, তিনিই নন্দীগ্রামে জিতছেন, তাও মমমতার হারের অন্যতম চিহ্ন বলেই দাবি করেছেন মোদী। তাঁর মতে, বারবার নিজেকে জয়ী ববলে ভরসা দিতে হচ্ছে মমতাকে। কারণ তিনিও বুঝে গিয়েছেন এবার তাঁকে হারতে হচ্ছে।

৬. এছাড়া, বর্তমানে প্রকাশ্যেই মুসলিম ভোটারদের একজোট হতে বলছেন মমতা। প্রধানমন্ত্রীর মতে এর অর্থ, যে মুসলিম ভোটকে শক্তি বলে মনে করতেন মমতা, আজ তাও যে তাঁর সঙ্গে নেই, তা বুঝে গিয়েছেন বাংলার বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। এখন তাই বলছেন, 'একজোট হয়ে আমাকে বাঁচাও।'

৭. সেইসঙ্গে, মমতা যে বলছেন বিজেপির সভায় মানুষ ভিড় করে আসেন অর্থের বিনিময়ে। এইভাবে তিনি বাংলার মানুষকে অপমান করছেন। আর  এটা করছেন মানুষ আর তাঁর সঙ্গে নেই, তা বুঝেই। কাজেই সব দিক থেকেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার পরাজিত হচ্ছেনই, এমনটাই বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।