আজ ওর জীবনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। কিন্তু তা বলে চাকরির পরীক্ষাকে অগ্রাহ্য নয়। এগরা এ ব্লকের কুদি গ্রামের মৌসুমী জানা তাই বিয়ের দিনেই ছুটলেন পরীক্ষা দিতে। একেবারে বিয়ের পোশাকেই বসলেন SSC পরীক্ষায়।

Egra: আজ ওর জীবনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। কিন্তু তা বলে চাকরির পরীক্ষাকে অগ্রাহ্য নয়। এগরা এ ব্লকের কুদি গ্রামের মৌসুমী জানা তাই বিয়ের দিনেই ছুটলেন পরীক্ষা দিতে। একেবারে বিয়ের পোশাকেই বসলেন SSC পরীক্ষায়। একদিকে এসএসসির গ্রুপ সি পরীক্ষা, অন্যদিকে রাতেই তাঁর বিয়ের আসর। জীবনের দু'টি বড় অধ্যায়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও কোনওটাকেই ছাড়তে চাননি মৌসুমী। তাই গায়ে হলুদের রেশ না কাটতেই সোজা পৌঁছে গেলেন পরীক্ষার কেন্দ্রে। সকালবেলায় গায়ে হলুদের সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান শেষ হয়। আত্মীয়স্বজনের ভিড়, বিয়েবাড়ির ব্যস্ততা। সবকিছুর মাঝেই সময় মেপে তৈরি হন মৌসুমী। হলুদ শাড়ি পরা, গায়ে এখনও হলুদের ছাপ স্পষ্ট, এই অবস্থাতেই তিনি পরীক্ষাকেন্দ্রে হাজির হন। এমন দৃশ্য দেখে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহলী হয়ে ওঠেন অন্য পরীক্ষার্থীরা। অনেকেই অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন। তবে মৌসুমীর চোখেমুখে ছিল দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস আর নিজের লক্ষ্য পূরণের জেদ।

কী বললেন মৌসুমী

পরীক্ষা শেষে মৌসুমী জানান, "পরীক্ষাটা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার ও শ্বশুরবাড়ির সকলে আমাকে ভীষণ উৎসাহ দিয়েছেন। তাঁদের সমর্থন না পেলে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হত না।"মৌসুমীর এই পদক্ষেপে স্পষ্ট, বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠান পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতেই হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। বরং পরিবারের সহযোগিতা থাকলে একই দিনে জীবনের দুই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বই সমান গুরুত্ব দিয়ে সামলানো যায়। তাঁর এই নিষ্ঠা ও মানসিক জোর নিঃসন্দেহে অন্য পরীক্ষার্থীদের কাছেও বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

সাহসিকতার নেপথ্যে কে

মৌসুমীর এই সাহসিকতার নেপথ্যে রয়েছে তাঁর শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের উদার মানসিকতা। বিয়ের দিনের ব্যস্ততা সত্ত্বেও, পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারের গুরুত্ব বুঝে তাঁরা তাঁকে পরীক্ষা দিতে আসার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠান পড়াশোনার পথে বাধা নয়, বরং যোগ্য পরিবার থাকলে তা হয়ে উঠতে পারে নতুন স্বপ্নের শুরু। ​মৌসুমীর এই নিষ্ঠা নিশ্চয়ই অনেক পরীক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।