বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়তে চাইছে না রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমুল কংগ্রেস প্রার্থীর। প্রথমে ছিল প্রার্থী  নিয়ে স্থানীয় বিক্ষোভ। দলের ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে সেই বিষয়টি মিটে গিয়েছে। প্রশমিত হয়েছে ক্ষোভ। মঙ্গলবারই, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থী তথা জেলা তৃণমুল সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়ালাকে নিয়ে প্রতারে বেরিয়েছিলেন কর্মী-সমর্থকরা। আর শরুতেই হোঁচট, ফের বিতর্ক।   

এদিন রায়গঞ্জ শহরের দেবীনগর কালীবাড়িতে পূজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন কানাইয়ালাল আগরওয়ালা। ঢাকের বাজনা আর পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে পুষ্পার্ঘ দেন। এই অবধি ঠিকই ছিল। কিন্তু, মন্দির থেকে বের হওয়ার পরই জেলা নেতৃত্বের উপস্থিতিতেই দলের সমর্থকেরা ব্যাপক হারে শব্দবাজি ফাটাতে শুরু করেন। প্রার্থী বা নেতা-নেত্রীরা তাঁদের আটকানোর চেষ্টাও করেননি। নির্বিবাদে এলাকায় প্রচার কর্মসূচি শুরু করেন।

এমনিতেই কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে রাজ্যে শব্দবাজি ফাটানো নিষিদ্ধ। তার উপর এই ব্যাপক শব্দবাজির আওয়াজে এলাকার মানুষ যারপরনাই বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। শহরজুড়েই শাসক দলের প্রার্থীর প্রচারে নিষিদ্ধ বাজি ফাটানো নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দল বিজেপির পক্ষ থেকে ইতিমধ্য়েই ঘটনার বিবরণ দিয়ে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে।

বিজেপির জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ীর অভিযোগ, তৃণমুল কংগ্রেস যে কোনও নিয়মকানুন মানে না, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারই শব্দবাজি ফাটানো নিষিদ্ধ করেছে। আর শাসক দলের নেতাদের উপস্থিতিতেই সমর্থকরা সেই সরকারি নির্দেশিকা অমান্য করলেন। চাপের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস জেলা নেতৃত্ব সাফাই দিয়েছে, অতি উচ্ছাসের বশে কিছু সমর্থক এই কাজ করে ফেলেছেন। কিন্তু, নেতৃত্ব উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাদের 'অতি উচ্ছ্বাস' সংবরণ করতে বললেন না কেন, সেই প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে।