রাজ্যে ভোট প্রচারে এসে মমতার সরকারকে নিশানা রাজনাথের।  'যে বাংলার মাটিতে একসময় রবীন্দ্র সঙ্গীত শোনা যেত-আজ সেই বাংলাতেই কেবল বোমার শব্দ শোনা যায়', বৃহস্পতিবার বাঁকুডা়র জয়পুরে নির্বাচনী প্রচারে এসেই তোপ দাগলেন রাজনাথ সিং। 

আরও পড়ুন, 'শুধু লুঠ করেছে তৃণমূল', শেষবেলায় আশ মিটিয়ে মমতাকে আক্রমণ যোগীর  

 

 

প্রসঙ্গত, ভোটের প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক বোমাবাজির ঘটনা ঘটে গিয়েছে। আর সবকটি অভিযোগই তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এরমধ্যেই বর্ধমানে ঘটে যাওয়া বোমের বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছে শিশুও। বল ভেবে বোমা নিয়ে খেলতে যায় ওই শিশুরা। এরপরেই আচমকা বোমাটি ফেটে গুরতর জখম অবস্থায় ওই দুই শিশুকে উদ্ধার করে  বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। মৃত্যু হয় শেখ আফরোজ নামের এক শিশুর। এবং  শেখ আব্রাহাম নামের অপর শিশুটিকে  ওই হাসপাতালেই রাখা হয়। সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানের রশিকপুরে। এরপরেই কমিশনের তরফে অফিসার -পুর-প্রশাসক বদল সহ একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

 

আরও পড়ুন, 'গেরুয়া বসনকেও ভয় পাচ্ছেন দিদি', পুরুলিয়ায় 'শিল্প' ইস্যুতে বাম-তৃণমূলকে নিশানা শাহ-র 

 

 


এদিকে বর্ধমানের ঘটনা পেরোতে না পেরোতেই বোমা ফেটে নিহত হন পান্ডবেশ্বরের এক ব্য়াক্তি এবং গুরুতর জখম হন আরও ৩ জন। এই ঘটনা প্রকাশ্য়ে আসতেই সদ্য ঘাসফুল শিবির ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যাওয়া জিতেন্দ্র অভিযোগ তুলে বলেছেন, 'তাঁকে খুন করতেই বোমা বেঁধেছিল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিরা।' তবে এখানেই শেষ নয়, এগুলি তো গেল ভোটের মুখে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণ। বোমা প্রসঙ্গে এর আগে বহুবার অভিযোগ তুলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালও। উল্লেখ্য,২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি নৈহাটি বিস্ফোরণে ৫ জনের মৃত্যু হয়। এরপর বছর ঘুরে একুশে পা দিতে ফেব্রুয়ারি মাসে নৈহাটি বিস্ফোরণের জেরে রাজ্যের ৩ অফিসারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ নিয়েছিল এনআইএ। সুতরাং উদাহরণের অভাব নেই বিজেপির কাছে। আর এবার সেই বিতর্কই উসকে দিয়ে ফের তাজা করলেন রাজনাথ। 

 

 

আরও পড়ুন, প্রথম দফা ভোটের ১০ হেভিওয়েট প্রার্থী, তালিকায় রয়েছেন সেলিব্রিটি থেকে ডাক্তার  


এদিন রাজনাথ বলেছেন, 'যে বাংলার মাটিতে একটাসময় রবীন্দ্র সঙ্গীত শোনা যেত, শোনা যেত চৈতন্য মহাপ্রভুর কীর্তন -স্বামী বিবেকানন্দের বাণী। আজ সেই বাংলাতেই  কেবল বোমার শব্দ শোনা যায়।' পাশাপাশি তিনি আরও বলেছেন, 'দিদি আপনাকে বলতে চাই, রাজনীতি কেবল সরকার গঠনের জন্য করা উচিত নয়, রাজনীতি-সমাজ ও দেশ গঠনের জন্যও করা উচিত। যে কোন ব্যক্তি যে কোনও জাত , বর্ণ , ধর্ম বা যেকোনো রাজনৈতিক দলের হোক না কেন, তার সুরক্ষা দেওয়া কি মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না' বলে প্রশ্নও তুলেছেন রাজনাথ।