হাতে রিভলভার, মুখে গাঁজা - সোশ্যাল নেটওয়ার্কে ভাইরাল তৃণমূল কংগ্রেসের যুব নেতার ছবি। আর এই ছবিকে কেন্দ্র করেই নির্বাচনের শোরগোল পড়ে গিয়েছে শান্তিপুরের রাজনৈতিক মহলে। একই নেতার সঙ্গে ছবি আছে তৃণমূলের নদীয়া জেলার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে। নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতেই তৃণমূল কংগ্রেস ময়দানে নেমেছে বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি। অন্যদিকে ছবিটি অসত্য এবং এর পিছনে চক্রান্ত রয়েছে বলে দাবি জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের।

নদীয়ার শান্তিপুর থানার বাগআঁচড়া এলাকার বাসিন্দা অসীম বিশ্বাস। এলাকায় তাঁর পরিচয় তৃণমূল কংগ্রেসের যুব নেতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি মহুয়া মৈত্র, তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা পরিষদের সভাধিপতি রিক্তা কুন্ডু, প্রাক্তন বিধায়ক তথা শান্তিপুরের এইবারের প্রার্থী অজয় দে প্রমুখের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছবি রয়েছে তাঁর। মঙ্গলবার, এই অসীম বিশ্বাসেরই একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।

বিতর্কিত সেই ছবি

ভাইরাল হওয়া সেই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট

কী ছিল সেই ছবিতে? ভাইরাল সেই ছবিতে অসীম বিশ্বাস-কে ডান হাত দিয়ে ধরে গাঁজা টানতে দেখা গিয়েছে। ধোঁয়ায় তাঁর মুখ প্রায় ঢাকা পড়েছে। আর তাঁর বাঁ হাতে ধরা একটি দেশি রিভলভার। সেটি কাঁধের উপর আলতো করে ফেলা আছে। সঙ্গের ক্যাপশনে 'অসীম দাদা'কে বাগআঁচরা অঞ্চলের 'যুব তৃণমূল কংগ্রেসের কান্ডারি' বলেও উল্লেখ করা হয়। মুহূর্তে গোটা জেলায় ভাইরাল হতে থাকে ওই ছবিটি এবং সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর।

তৃণমূল প্রার্থী অজয় দে-র সঙ্গে অসীম বিশ্বাস

শান্তিপুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অজয় দে-র অবশ্য দাবি 'ছবিটি তৈরি করা'। অসীম বিশ্বাস-কে চিনতে অস্বীকার করেননি তিনি, বরং জানিয়েছেন 'ছেলেটি ভালো ছেলে'। অজয়ের দাবি, ভোটের আগে যুবনেতাটিকে ফাঁসানোর জন্যই এই চক্রান্ত করা হয়েছে। এই বিষয়ে দলের করফে প্রশাসনকে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী।

জেলা তৃণমূল সভাপতি মহুয়া মৈত্রর সঙ্গে অসীম বিশ্বাস

তবে বিজেপির দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস একটি 'তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেটের দল'। পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে তাদের। আসন্ন বিধানসভায় পরাজয় নিশ্চিত। তাই মানুষকে আতঙ্কে রাখতেই তারা এই বন্দুক বোমা প্রদর্শনের রাস্তায় যাচ্ছে। তৃণমূলের প্রথম সারির নেতৃত্ব এই তথাকথিত যুবনেতাদের মদত দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে গেরুয়া শিবির থেকে।
গোটা বিষয়টির সত্যতা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে শান্তিপুর থানার পুলিশ। তদন্তের আগে, এই বিষয়ে তাঁরা কোনও মন্তব্যও করতে চায়নি।