শুভেন্দু অধিকারীর আতঙ্ক ভুগছে তৃণমূল কংগ্রেস।ছেলে দল ছাড়লেও তিনি এখনও তৃণমূল কংগ্রেসেই রয়েছেন।  তৃণমূল কংগ্রেস বা দলনেত্রী সম্পর্কে কোনও অশানীল মন্তব্য না করে এশিয়ানেট নিউজ বাংলার সিনিয়র এডিটর দেবজ্যোতি চক্রবর্তীকে  শিশির অধিকারী জানিয়েছেন তাঁর সঙ্গে দল যে ব্যবহার করছে তা তাঁর প্রাপ্য নয়। দলের থেকে তিনি যে ব্যবহার পাচ্ছেন তা তাঁর মনোকষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছ। তিনি আরও বলেন, দল তাঁর নিষ্ক্রীতির পথেও করে দেবে। শিশির অধিকারী ইঙ্গিত দিয়েছেন তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়ে তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছেন।  তাঁর কথায় রীতিমত স্পষ্ট শুভেন্দু অধিকারী দল ছাড়ার পর মেদিনীপুরে রীতিমত কোনঠাসা অধিকারী পরিবার। দলের ছোট-বড় সব নেতাই তাঁর ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে প্রচ্ছন্ন দূরত্ব বজায় রেখে চলছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, তাঁদের সঙ্গে  তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও নেতা কর্মী এমনকি সদস্যরাও যাতে যোগাযোগ না রাখেন তার জন্য বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে দল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।  তিনি আরও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী দল ছাড়ার পরে পূর্ব মেদিনীপুরে চরম সংকটে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। 

শিশির অধিকারী জানিয়েছেন তিনি এখনও তৃণমূল কংগ্রেসেরও রয়েছেন। কিন্তু প্রার্থী তালিকা তৈরি করা নিয়ে এখনও পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা করা হয়নি। এই বিষয়ে নিয়ে এর থেকে আর বেশি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি শিশির অধিকারী। তবে এই বিষয়টি তাঁকে যে আঘাত করেছে তা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন তিনি। শিশির অধিকারী আরও বলেন দলবিরোধী কার্যকলাপ সম্পর্কে একটা আইন রয়েছে। সেই আইন না ভাঙলেও তাঁকে কষ্ট নিয়ে দল ছাড়তে বাধ্য করা হবে-তাঁর ক্ষেত্রে এমনটাই নীতি নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁর ও তাঁর পরিবার সম্পর্কে দলের নেতাদের পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও একাধিক মন্তব্য করেছেন। অথচ অভিষেককে তিনি ছোট থেকে দেখেছেন তাঁর কাছ থেকে এমনটা আশা করেন না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন কার সম্পর্কে কথা বলা হচ্ছে তা সম্পর্কে কোনও ধারনা নেই। তিনি আরও বলেছেন তাঁর চারটি সন্তান রয়েছে। অন্যের সন্তান সম্পর্কে কুকথা বললে তার প্রভাব পড়বে তাঁর সন্তানদের ওপর। তা তিনি চাননা বলেও জানিয়েছেন। 

এশিয়ানেট নিউজ বাংলার পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল বিধানসভা নির্বাচনে তিনি কার পাশে থাকবেন, নন্দীগ্রামে প্রার্থী হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে যদি তাঁর ছেলে শুভেন্দু প্রার্থী হয় তাহলে তিনি কার পক্ষে থাকবেন, ছেলে না দল তৃণমূল কংগ্রেস? তার উত্তরে শিশির অধিকারী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন ছেলে শুভেন্দুর পাশেই থাকবেন তিনি। তিনি বলেন 'একজন পিতা যা অবস্থান নেয় তিনিও সেই অবস্থান নেবেন। পুত্রকে বাদ আমি কী বলে দৌড়াতে যাব?' 

অখিল গিরি সম্পর্কেও মন্তব্য করেন শিশির অধিকারী। তিনি বলেন অখিল গিরি সম্পর্কে যত কম কথা বলা যায় ততই ভালো। তিনি আরও বলেছেন বর্তমানে সৌজন্যের রাজনীতি হারিয়ে গেছে। তবে তাঁর প্রতিপক্ষও যাতে ভালো থাকেন সেই প্রার্থনাই তিনি এখনও পর্যন্ত করে যাচ্ছেন। শুভেন্দু তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কোনও কথা হয়নি। দলের কোনও শীর্ষ নেতৃত্বও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

গেঁওখালি জাহাজ কারখানা নিয়েও অনস্তোষ রয়েগেছে তাঁর মনে। রাজ্যের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন ২০১০ সালে তিনি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তা এখনও পর্যন্ত হয়নি। তবে জাহাজ কারখানা হলে অনেকেই চাকরি পেত। উপকার হত স্থানীয় বাসিন্দাদের।