সোমবার, হলদিয়া বিধানসভা এলাকা কাঁপল বিজেপির বাইক মিছিলে। নেতৃত্ব দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি  ইরানি। হলদিয়ায় বিজেপি প্রার্থী করেছে তাপসী মন্ডলকে। তাঁর সমর্থনেই এদিন হলদিয়ার টাউনশিপ থেকে সিটি সেন্টার পর্যন্ত হয় বিজেপির বাইক মিছিল। সবার আগে একটি স্কুটিতে ছিলেন স্মৃততি ইরানি। আর এই স্কুটার-বাইক মিছিল নিয়েই, নির্বাচন কমিশনে বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ করল তৃণমূল কংগ্রেস।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তৃণমূল মুখপাত্র তাপস মাইতি অভিযোগ, কোনও অনুমতি ছাড়াই টাউনশিপ থেকে সিটি সেন্টার পর্যন্ত ওই বাইক মিছিল করেছে গেরুয়া শিবির। প্রায় দেড়শ বাইক ছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ওই প্রচার কর্মসূচিতে। নির্বাচনী বিধি মেনে ওই মিছিল করা হয়নি বলেই দাবি তৃণমূলের। তাদের অভিযোগ, কোনও অনুমতি ছাড়াই ওই বাইক মিছিল করা হয়েছে। এইভাবে বাইক মিছিল করে 'শান্ত হলদিয়া'কে 'অশান্ত' করার চেষ্টা করছে বিজেপি, নির্বাচন কমিশনে এমনটাই জানিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।

তৃণমূলের এই অভিযোগকে যদিও একেবারেই আমল দিচ্ছেনা পদ্ম শিবির। বিজেপি-র তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি তপন বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই মিছিল করা হয়েছে। স্কুটি চালানোর সময় স্মৃতি ইরানির মাথায় হেলমেটও ছিল। তাঁর মতে আসলে তৃণমূল কংগ্রেস দল কোনও নিয়ম নীতি মানে না বলেই অন্যদের ক্ষেত্রেও সেইরকমই চিন্তা আসে। তিনি আরও বলেন, নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পায়ে আঘাত পেয়েছিলেন। সেই ঘটনার দায়ও বিজেপির উপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন সেই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ভর্ৎসনা করেছে। আসন্ন ভোটে বাংলার মানুষও তৃণমূল কংগ্রেসকে যোগ্য জবাব দেবে।

এদিনই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোট গ্রহণের ৭২ ঘণ্টা আগে নিষিদ্ধ করা হবে বাইক মিছিল। নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ এসেছিল, ভোটের আগে বাইক মিছিল করার মূল উদ্দেশ্যই হল ভোটারদের ভয় দেখানো। সেই অভিযোগ মেনে নিয়েছে কমিশন। আর সেই কারণেই নির্বাচনের ৩ দিন আগে থেকেই বাইক মিছিল নিষিদ্ধ করা হল।