বিধানসভা ভোটের আগেই মুর্শিদাবাদে ঘাসফুল শিবিরে বড়সড় ভাঙন দেখা দিন। রবিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন শিলিগুড়িয়ে মেগা ব়্যালিতে ব্যস্ত তখনই তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে কংগ্রেসে নাম লেখালেন জেলার দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত নাসির শেখ সহ কয়েক হাজার তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থক ও অনুগামী। বিধায়ক পদে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিট না পেয়েই দলবদল। রঘুনাথপুরের বাসিন্দা নাসির শেষ বহরমপুরে এসে কংগ্রেসের লোকসভার নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীর হাত ধরেই কংগ্রেসে যোগ দেন। 

 রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের ১৫ নম্বর জেলা পরিষদের  তৃণমূল সদস্য তথা স্থানীয় দাপুটে নেতা নাসির শেখ সহ পঞ্চায়েত সমিতির ২ জন সদস্য সমেত কয়েক হাজার কর্মী সমর্থক সরাসরি বহরমপুরে এসে কংগ্রেসে যোগদান করে । স্থানীয় সূত্রের খবর, তৃণমূলের টিকিট না পাওয়ার জেরেই তাঁর এই দলবদল। লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর বলেন, ‘‘সারা মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রমশ প্রকাশিত হচ্ছে। এই জেলায় তৃণমূল দলটাকে যাঁরা তৈরি করেছিলেন সেই নেতাদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটিও আসন দেননি। আজ যাঁরা টিকিট পাচ্ছেন, তাঁদের একমাত্র শর্ত টাকা আছে কি না, গুলি-বন্দুক আছে কি না"।


নাসির  বলেন, আজ তৃণমূল দলটা চলছে শুধু লেনদেনের উপরে। কোনও রাজনৈতিক আদর্শ দলে নেই। তৃণমূলকে নির্ভর করতে হচ্ছে নায়ক-নায়িকাদের উপরে। আর এই জেলায় যারা চুরি-চামারি করে টাকা রোজগার করে, তারাই তৃণমূলের টিকিট পাচ্ছে। দিদির দলে পরিশ্রম করে টিকিট পাওয়া যাবে না। রাজনীতি করে টিকিট পাওয়া যাবে না। টিকিট পাওয়ার অন্যতম শর্ত হল  নায়ক-নায়িকা হতে হবে। অথবা দুর্নীতিগ্রস্ত হতে হবে। এভাবে চললে শেষ রক্ষা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আগামী ২ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর তৃণমূলের অবস্থা হবে গভীর সমুদ্রে ফুটো হয়ে যাওয়া নৌকার মতো। তাই ভোটের আগেই তাঁরা অধীর চৌধুরীর হাত ধরে দল বদলের সিন্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।