শনিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দপার ভোটগ্রহণের দিন সকালেই রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়েছিল একটি ফোনকল রেকর্ড নিয়ে।  সেই অডিও ক্লিপ ফাঁস করে, নন্দীগ্রামে ভোট লড়ার জন্য তৃণমূল থেকে দলবদলু বিজেপি নেতা প্রলয় পালের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনই দাবি করে বিজেপি। আর বিকেলেই আবার সামনে এল মুকুল রায়ের একটি অডিও ক্লিপ। সেখানে বিজেপি নেতা মুকুল রায়কে নির্বাচনী কমিশনের উপর প্রভাব বিস্তার করতে শোনা গিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সব মিলিয়ে এদিন যেন বাংলার নির্বাচনে অডিও ক্লিপ যুদ্ধের শুরু হল।

তৃণমূল কংগ্রেস এদিন বিকেলে একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ করে দাবি করেছে সেটি বিজেপি নেতা মুকুল রায় এবং শিশির বাজোরিয়ার মধ্যে হওয়া একটি কথোপকথন। সেখানে কীভাবে নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করা হবে, সেই সম্পর্কে তাঁদের আলোচনা করতে শোনা যায়। তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী এই অডিও ক্লিপটিতে, শিশির বাজোরিয়াকে মুকুল রায় বলেছেন, কোনও বুথে এজেন্ট শুধু বুথ সংলগ্ন অঞ্চলের ভোটাররাই হতে পারবেন, এটা থাকলে হবে না। বাংলার যে কোনও জায়গার ভোটারই যে কোনও বুথে যাতে এজেন্ট হতে পারেন সেই দাবি নিয়ে নির্বাচনী বিধি পরিবর্তন করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে যেতে হবে। নাহলে একটা বড় অংশের বুথে  বিজেপি নির্বাচনী এজেন্ট দিতে পারবে না।

তৃণমূলের দাবি, এর কয়েকদিন পরই কমিশন ঠিক এই কাজই করেছে। বিধি বদলে যে কোনও জায়গার ভোটারকে, যে কোনও বুথে এজেন্ট হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। শনিবারই কমিশনের কাছে যে বিধি পরিবর্তনের বিরোধিতা জানিয়েছে ঘাসফুল শিবির। তাদের অভিযোগ বিজেপি তাদের কাছে এই দাবি জানাতেই আর কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নির্বাচন কমিশন বিজেপির সুবিধা মতো বিধি পরিবর্তন করেছে।

এই অডিও ক্লিপটি নকল বলে অস্বীকার করেছেন মুকুল রায়। শিশির বাজোরিয়ার মতে, মমতা নিদের অডিও ক্লিপ কেলেঙ্কারিকে ধামাাপা দিতেই এই অডিও ক্লিপ প্রকাশ করেছেন। অডিও-তে যদি তাঁর সঙ্গে মুকুল রায়কে কথা বলতেও শোনা যায়, সেই ক্ষেত্রে দুই নেতা তাঁদের নির্বাচনী কৌশল নিয়ে কথা বলতেই পারেন। শিশির বাজোরিয়া জানিয়েছেন, কমিশনের কাছে তাঁরা দাবি জানিয়েছিলেন চিঠি দিয়ে, সেটা কোনও গোপন বিষয় নয়। অপরদিকে, বিজেপি নেতার কাছে সাহায্য চেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের ফোন করার অডিও ক্লিপটি থেকে ২ মে-র ফল স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন এই বিজেপি নেতা।

তবে, তৃণমূল সেই দাবি মানছে না। তাদের মতে, কোনও দক্ষ কর্মীকে দলে ফিরিয়ে আনতে রাজি করার চেষ্টা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এটা তাদের দলের 'প্রকৃত গণতান্ত্রিক প্রকৃতি'রই পরিচয়। সেই সঙ্গে দলের প্রতিটি কর্মীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কতটা গুরুত্ব দেন, সেটাও দেখা গিয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ওই কথোপকথন শেষ হওয়ার সময় দুই পক্ষই চরম সৌজন্য প্রদর্শন করেছিল। আমরা মমতার প্রশংসা করি। মমতা ওই কর্মীর সঙ্গে মতভেদ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে শুভ কামনা জানিয়েছিলেন। রাজনীতিতে এর থেকে ভাল কিছু হতে পারে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেতা হিসাবে পেয়ে তৃণমূল গর্বিত।