পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ফলে একটা বড় ভূমিকা গ্রহণ করে রাজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট। রাজ্যে বাম জমানার অবসানের পর সংখ্যালঘু ভোটে একাধিপত্ব বিস্তার করেছিল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে সেই ভোট কতটা ঘাসফুলে যাবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ একদিকে দল ঘোষণা করে শাসক দলকে জোর ধাক্কা দিয়েছেন ফুরফুরা শরিফের পিরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী। তারউপর জেলায় জেলায় সংগঠন বিস্তার করেছে আসাউদ্দিন ওয়াইসির দল 'মিম'। আব্বাসের সঙ্গে জোটের কথাও চলছে ওয়াউসির। ফলে একদিকে রাজ্য জুড়ে বিজেপির ব্যাপক হারে শক্তি বৃদ্ধি ও মিমি-আব্বাস জোটের সমীকরণ, দুই কারণে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলি নিয়ে চিন্তা বেড়েছে কালীঘাটে।

রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলির মধ্যে অন্যতম মুর্শিদাবাদ। জেলা তৃণমূল নেতৃত্বকে ইতিমধ্যেই বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, 'মিম' ও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সম্প্রতি জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে বার্তা পাঠিয়েছেনে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলার সংগঠনের হালহকিকত জানতে চাওয়ার পাশাপাশি দলকে ‘ভোকাল টনিক’ও দেন মুখ্যমন্ত্রী। মিম ও বিজেপি জেলায় কোনও দাগ কাটতে পারবে না বলেও জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল জেলা সভাপতি আবু তাহের খান জানিয়েছেন,"নেত্রী আমাদেরকে মুর্শিদাবাদ জেলায় আগামী দিনে নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা দিয়েছেন। তাই আসাউদ্দিন ওয়াইসি বা তার দোসর বিজেপি আমাদের কাছে গুরুত্বহীন"। যদিও এই ব্যপারে মুর্শিদাবাদে মিমের দায়িত্বে থাকা এক নেতা মোহাম্মদ আশাদুল শেখ বলেন," মুখ্যমন্ত্রী ভয় পেয়েছেন 'মিম' কে নিয়ে,মিম আগামী দিনে মুর্শিদাবাদে তৃণমূল সুপ্রিম কে যোগ্য জবাব দেবে।বাকিটা সময় বলবে'।

পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া বিহারের কিষাণগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনে মিম প্রার্থী জয় পাওয়ার, বাংলায় নির্বাচনে লড়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন আসাউদ্দিন ওয়াইসি। ইতিমধ্যেই জেলার গ্রামগুলিতে মিমের সংগঠন অনেকটাই শক্তি বিস্তার করেছে বলে খবর। তারউপর আব্বাস সিদ্দিকীর দলের সঙ্গে যদি জোট হয় মিমের তাহলে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্কে বড়সড় ফাটল ধরবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বাম-কংগ্রেস যুক্ত হলে ঘোর বিপদ। এছাড়াও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দলকে ভোটের ময়দানে কোমড় বেধে নামারো জন্য ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্যই তৃণমূল সুপ্রিমো মিম ও বিজেপি কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে না বলে জেলা নেতৃত্বকে বার্তা দিয়েছে। ফলে  মিম, সিদ্দিকি, বিজেপি নিয়ে রাতের ঘুম উড়েছে কালীঘাটের।