যতই নির্বাচন এগিয়ে আসছে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ আরও চড়ছে। এবার ভোটের মুখে সক্রিয় তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল হুগলির বলাগড়ে। মৃত তৃণমূল কর্মীর নাম শেখ মাসুদ। ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে পদ্ম শিবিরের নেতারা। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই এই ঘটনা বলে পাল্টা দাবি করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলাগড় থানার পুলিস।

মঙ্গলবার শেখ মাসুদ বলাগড়ের তৃণমূল প্রার্থী মনোরঞ্জন ব্যাপারীর সাথে একাধিক কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। রাত দশটার পর মাসুদের মোবাইল ফোন সুইচড অফ হয়ে যায়। এরপর সারারাত বহু খোঁজাখুঁজি করেও মাসুদের কোনখবর পায়নি তাঁর পরিবারের লোকজন। বুধবার ভোরে বলাগড় থানার তেলকি মাঠ এলাকায় রাস্তার ধারে মাসুদের মৃতদেহ দেখতে পায় স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁর মাথার  একাধিক অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। বলাগড় থানার পুলিস মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান মাসুদকে খুন করা হয়েছে। তবে ব্যাক্তগত আক্রোশ নাকি ভোটের আগে রাজনৈতিক কারনে এই খুন সেবিষয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিস।

স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এই খুনের জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করেছে। বলাগড় ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি নবীন গাঙ্গুলী বলেন যে এলাকায় মাসুদের দেহ পাওয়া গেছে সেই এলাকাটি বিজেপি অধ্যুষিত। সুতরাং আমারা নিশ্চিত বিজেপি পরিকল্পনা করে মাসুদকে খুন করেছে। বিজেপি খুন-দাঙ্গা ছড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের রথ থামাতে চাইছে। কিন্তু সেটা সম্ভব হবে না। অন্যদিকে বলাগড় ব্লকের বিজেপি নেতা অলোক কুন্ডু বলেন বিজেপি মারদাঙ্গার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেনা। বলাগড়ে তৃণমূলের অনেকগুলি গোষ্ঠী রয়েছে। সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এই খুন। ভোটের আগে এই ঘটনায় বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে বলাগড়ের রাজনৈতিক উত্তাপ।