হুগলির খানাকুলে উদ্ধার তৃণমূল কর্মীর দেহ খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ শাসক দলের রাতভর নিখোঁজ থাকার পর পাওয়া যায় দেহ এলাকায় ব্যপক উত্তেজনা মোতায়েন পুলিস  

নির্বাচনের আগে আরও এক মৃত্যু রাজ্যে। তৃণমূলের বুথ সভাপতির মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়াল। ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির খানাকুলের হরিশচক এলাকায়। পুলিস জানায়,মৃতের নাম শেখ নুরসের আনোয়ার আব্দুল। তাকে খুন করা হয়েছে বলে তৃণমূলের অভিযোগ। অভিযোগের তির বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিদের দিকে। ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিস বাহিনী। মৃত তৃণমূলকর্মী হরিশচক এলাকারই তৃণমূলের বুথ সভাপতি ছিলেন। দেহ উদ্ধারের পরই এলাকায় দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল কর্মী সমর্থক ও মৃতের পরিবারের লোকজন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মৃতের দাদা সেখ রফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার তার ভাই শাবলসিংহপুরে ব্যাঙ্কে যাওয়ার নাম করে বেলা এগারোটা নাগাদ বাড়ি থেকে বের হয়।তারপর সে সারাদিন বাড়ি ফিরে আসে নি। সারা রাত চারিদিকে আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে ফোন করে খোঁজা খবর নেন। এলাকায় খোঁজখুঁজি করেও তার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না।বুধবার সকালে তিনি মুন্ডেশ্বরী নদীর দিকে খুঁজতে যান। ভাইয়ের ছেঁড়া জামা, চটি দেখতে পান। এলাকার কয়েকজন যুবককে নিয়ে নদীর চর ধরে খোঁজাখুঁজি করতেই নদীতে পানা চাপা দেওয়া অবস্থায় নুরসেরের মৃতদেহের হদিস পান।সেখ রফিকুল ইসলাম আরও জানান,তিনদিন আগে বিজেপির কর্মীরা তাদের দেওয়ালে পোষ্টার মারতে গেলে নুরসের আপত্তি করে। তখন তারা নুরসেরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে যায়। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে পরিবারের ও তৃণমূল কর্মীদের দাবি। পরিবারের দাবি নুরসেরকে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে।পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিসকে ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা।

খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছান খানাকুলের তৃণমূল প্রার্থী মুন্সী নজবুল করিম ও তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা পুড়শুড়া বিধানসভার প্রার্থী দিলীপ যাদব। ওই ঘটনার পিছনে বড়সড় কোন রাজনৈতিক চক্রান্ত কাজ করছে বলে দাবি করেন। দিলীপ যাদব বলেন,বিজেপির দুষ্কৃতিরা খানাকুল এলাকায় বাম জমানার খুনের রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চাইছে। তাই তারা নির্বাচনের মুখে এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করার জন্য এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেন। ঘটনার জেরে হোটা এলাকা থমথমে। চাপা উত্তেজনা থাকায় এলাকায় পুলিস বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।