কৌশিক সেন- কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হবে ষষ্ঠ দফায়। মনোনয়নপত্র জমা শুরু শুক্রবার। দেবার শেষ তারিখ ৩ এপ্রিল, প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৭ এপ্রিল। ভোটগ্রহণ ২২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার। অথচ প্রার্থী নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে বন্ধ বিজেপির প্রচার। কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য বিজেপি প্রার্থী হিসেবে স্থির করেছে সৌমেন রায়কে। সৌমেন রায় ফালাকাটার বাসিন্দা। এলাকার বাসিন্দাকে প্রার্থী না করে বহিরাগতকে প্রার্থী করা নিয়ে শুরু থেকেই ক্ষোভের কথা জানিয়েছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। তাতে কিছু ফল মেলেনি। এরপর ক্রমে শুরু হয় পদত্যাগের ঢল।

আরও পড়ুন- দোল উৎসবে মাতলেন, সঙ্গে প্রচারটাও সারলেন সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা, দেখুন ছবিতে-ছবিতে 

এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের অন্তত ২৫০ জন ভাজপা কার্যকর্তা সেখানে দল ছেড়েছেন। প্রার্থী বদলের দাবিতে দুদিন আগে বিজেপির কালিয়াগঞ্জ ২৮ নম্বর গ্রাম মণ্ডল সভাপতি কার্তিক পাহান ইস্তফা দিয়েছিলেন। সেই পথ অনুসরণ করে এবারে কালিয়াগঞ্জের অন্যান্য মন্ডল সভাপতির সঙ্গে বিজেপির শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ, সহ শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ, সহ প্রায় ২৫০ জন নেতৃস্থানীয় কর্মী পদত্যাগ করেছেন। 

আরও পড়ুন- আজ থেকে নন্দীগ্রামে মমতা, শুভেন্দুর সমর্থনে প্রচারের ঝড় তুলতে আসছেন শাহ-মিঠুনও 

এর জেরে প্রচার কার্যত বন্ধ কালিয়াগঞ্জে। গত সাতদিন ধরে ট্যাবলো দাঁড়িয়ে রয়েছে কালিয়াগঞ্জে বিজেপির দলীয় দফতরের সামনে। পড়ে রয়েছে হোর্ডিং। কিন্তু মানুষ নেই দফতরে। ভোটের বাজারে যে পার্টি অফিস গমগম করত রাতদিন কার্যকর্তাদের আগমনে, শহরের ডাকবাংলো রোডে বিজেপির সেই পার্টি অফিসে এখন তালা খোলার লোক নেই। প্রচার ট্যাবলো নিয়ে অপেক্ষায় থাকা গাড়ির চালক জানান, শিলিগুড়ি থেকে তাঁকে পাঠানো হয়েছে। কয়েকদিন প্রচারের কাজ করলেও প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকে বন্ধ প্রচার। স্হানীয় নেতৃত্ব তাঁকে আপাতত গাড়ি নিয়ে বেরোতে নিষেধ করেছেন। তাঁকে যাঁরা পাঠিয়েছেন, তাঁদের এ সব কথাই জানিয়েছেন চালক। 

আরও পড়ুন- গভীর রাতে লালগড় থেকে গ্রেফতার ছত্রধর, জঙ্গলমহলের নেতাকে কলকাতায় নিয়ে এল NIA 

বিজেপির কালিয়াগঞ্জ বিধানসভার আহ্বায়ক রাণাপ্রতাপ ঘোষ প্রার্থী বদলের দাবিতে দলের অন্দরে ক্ষোভ ও গণ ইস্তফার কথা মেনে নিয়েছেন। বহিরাগত প্রার্থীর চরিত্র নিয়ে যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তার জেরে দলের কার্যকর্তা থেকে সাধারণ কর্মীরা এই প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারে যেতে রাজী নন। এবার প্রার্থী সত্যিই বদল করা হয় নাকি এই ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মাদের বুঝিয়ে সুজিয়ে প্রচারে শামিল করা যায়, তা সময়ই বলবে। তবে এর ফলে যে বিরোধীরা অনেকটা এগিয়ে গেল, তা নিশ্চিত।