সঞ্জীব দুবে, পূর্ব মেদিনীপুর, ছেলে বললে প্রচারে বেরোবেন। তবে এই বয়সে খুব বেশি ধকল নিতে পারবেন না। বুধবার কাঁথিতে নিজের বাসভবন শান্তিকুঞ্জের সামনে এ কথা জানালেন শিশির অধিকারী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূল সাংসদ বলেন, তিনি যে কোন রাজনৈতিক দলে রয়েছেন, তা তাঁর কাছেই স্পষ্ট নয়। 

এদিন দ্বিতীয় টিকা নিতে বাড়ি থেকে বেরোতেই অপেক্ষারত সাংবাদিকরা শিশির অধিকারীকে পাকড়াও করেন। সকলের প্রশ্নেরই উত্তর দেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ। শিশিরবাবু তৃণমূলে এখনও রয়েছেন, রয়েছেন তাঁর অন্য ছেলেও। এদিকে তিনি বিজেপির প্রচারে বেরোবেন বলেও শোনা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে তাঁর মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, গত বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচার করা হচ্ছে, তাঁকে উদ্দেশ্য করে কটু কথা বলা হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে। একদিকে তাঁদের যেমন চোর-ডাকাত বলা হচ্ছে, আবার তারই সঙ্গে মীরজাফর ও বেইমান বলেও তাঁকে উল্লেখ করা হচ্ছে। সখেদে শিশির অধিকারী বলেন, তিনি বা তাঁরা ভোগী না ত্যাগী, তা এ অঞ্চলের মানুষ জানেন।

ভোটে খরচ হচ্ছে কয়লা পাচারের টাকা, কয়লাকাণ্ডই তৃণমূলের বিরুদ্ধে হাতিয়ার শুভেন্দু অধিকারীর ... 

লালমাটির ঝাড়গ্রামে ত্রিমুখী লড়াই, কার হাতে থাকবে 'জঙ্গলমহল'র দায়িত্বভার ...

কাঁথির সমুদ্রবন্দরের বিষয় নিয়ে তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শিশির অধিকারী। এদিন তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের যে গভীর বন্দরের অনুমোদন দেওয়ার কথা, তা বারবার পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গড়করি ২০১৯ সালে এই বন্দরের অনুমোদন দিয়ে তৎকালীন মন্ত্রিসভায় পাঠিয়ে দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ কথা তাঁকে স্বয়ং গড়করি বলেছেন বলে এদিন সাংবাদিকদের জানান শিশির অধিকারী। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের চোট নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শিশির। তিনি বলেন, নন্দীগ্রামে এসে আহত হওয়া নিয়ে মমতা যা করেছেন, তাত নন্দীগ্রাম তথা গোটা জেলার পক্ষে অবমাননাকর। চোট নিয়ে মমতা যে বয়ান বদল করেছেন, প্রথমে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া থেকে পরে গাড়ির দরজায় ধাক্কা লাগার কথা বলেছেন, এ সব প্রসঙ্গ উল্লেখ করার সঙ্গে সঙ্গে শিশির অধিকারী কাঠগড়ায় তুলেছেন এস এস কে এম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও। শিশিরের বক্তব্য, এইমসের পর যার উপর আস্থা রাখা যেত, সেই পিজি হাসপাতাল এরকম ঘটনায় পায়ে প্লাস্টার করে দেওয়া ও হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করা বিস্ময়কর। নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থীর পিতা বলেন, এরকম ঘটনা কোনও সিনেমায় আগে দেখা গিয়েছিল লে তিনি শুনেছেন। এখন তাঁরাও সিনেমা দেখছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভামঞ্চে থাকবেন কিনা সে প্রসঙ্গে শিশির বলেছেন, সুযোগ দেওয়া হলে তিনি অবশ্যই সেখানে যাবেন, আপত্তি করার কোনও কারণ নেই।