বুধবার, তৃতীয়বারের জন্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোভিড আবহে একেবারেই ছোট মাপের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল রাজ ভবনে। দিদিও তাঁর সমর্থকদের বিজয় মিছিল বা কোনও উৎসব করতে বারণ করেছিলেন। কিন্তু, যে মা-বোনেরা তাঁর প্রচারসভার সামনের অংশে ভিড় জমাতেন, যে মা-বোনেরা তাঁকে দুহাত ভরে আশীর্বাদ করেছেন, তাঁরা এই ঐতিহাসিক ক্ষণে একেবারেই কিছু করবেন না, তা কি হয়? তাই দিদির শপথ গ্রহণের সময়টা, রিয়ঙ্কা দাস ঘোষ, জয়ন্তী চক্রবর্তী, টিংকু সাহা, প্রীতিকা রায়, কেয়া চৌধুরী, মাধুরী চৌধুরীরা স্মরণীয় করে রাখলেন শঙ্খ বাজিয়ে।  

তৃতীয়বার মা-মাটি-মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দিন এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখা গেল নদীয়ার ফুলিয়া টাউনশিপ এলাকার বইচা ঘোষপাড়ায়। পুরুষরা কোনও মিছিল করেননি। আনন্দ-উরসব থেকে নিজেদের দূরেই রেখেছিলেন। কিন্তু, রিয়ঙ্কা, জয়ন্তী, টিংকু-দের মতো গৃহবধুরা কিন্তু চুপ করে বসে থাকতে পারেননি ঘরে। ঘড়িতে তখন পৌনে এগারোটা। মমতার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হল। আর তাঁরাও শঙ্খ বাজাতে শুরু করলেন। তারপর, পাড়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে পথচারীদের মিষ্টি খাওয়ালেন, সবুজ আবিরে রাঙিয়ে দিলেন দলীয় কর্মী সমর্থকদের। আবির খেলা, মিষ্টিমুখ সবটাই অবশ্য হয়েছে কোভিড-বিধি মেনেই।

এইবারের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্দান্ত জয় পেয়েছেন। এখনও পর্যন্ত নির্বাচন হওয়া ২৯২ টি আসনের মধ্যে ২১৩ টিতে জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি ৭৭ টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
 এদিন একাই শপথ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৯ মে তারিখে বাকি মন্ত্রীরা শপথ নেবেন। এদিন শপথ গ্রহণের পরই নবান্নে যান তিনি। সেখানে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অফ অনার প্রদান করা হয়।
 তৃতীয়বার দায়িত্ব নিয়েই তিনি সাফ জানিয়েছেন, তাঁর অগ্রাধিকার হল কোভিড পরিস্থিতি এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা।