বন্ধু, পরিচিত অনেককেই বলেছিলেন। কিন্তু তাঁরা কেউ রাজি হননি। তাতেও পিছিয়ে যাননি পেশায় কম্পিউটার শিক্ষিকা বহ্নিশিখা রায়। হায়দরাবাদে নৃশংসতায় অভিযুক্ত ধর্ষকদের ফাঁসি চেয়ে একাই রাস্তায় ধর্নায় বসে গেলেন ওই তরুণী। শনিবার বিকেলে এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকল চুঁচুড়ার ঘড়ি মোড়। 

হায়দরাবাদে তরুণী পশু চিকিৎসককে গণধর্ষণ এবং হত্যার প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে গোটা দেশ। তেলেঙ্গানায় রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। দেশের অন্যান্য অংশের মতো কলকাতাতেও বিক্ষোভ মিছিল সংগঠিত হয়েছে। 

নিজের প্রায় সমবয়সি এক তরুণীর উপর এমন নির্মম নির্যাতনের ঘটনা মেনে নিতে পারেননি পেশায় কম্পিউটার শিক্ষিকা বহ্নিশিখাও। বাঁশবেড়িয়ায় কম্পিউটার শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত এই তরুণী হায়দরাবাদের ঘটনায় অভিযুক্তদের ফাঁসি চান। সেই দাবি নিয়ে রাস্তায় প্রতিবাদে সামিল হতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই আবেদন রেখেছিলেন নিজের পরিচিতদের কাছেও। কিন্তু কেউই তাঁর আবেদনে সাড়া দেননি। 
হতদ্যম না হয়ে শনিবার বিকেলে চুঁচুড়া ব্যস্ত এলাকা ঘড়ি মোড়ে ধর্নায় বসেন তিনি। ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে নিজেই একটি প্ল্যাকার্ড তৈরি করে নেন বহ্নিশিখা। হায়দরাবাদের নির্যাতিতার ছবি রেখে তার সামনে মোমবাতিও জ্বালান তিনি। 

প্রথমে ওই তরুণীকে রাস্তায় একা বসে থাকতে দেখে বেশ অবাকই হয়েছিলেন পথচলতি মানুষ। কিন্তু তরুণীর উদ্দেশ্য জানার পরে তাঁকে ঘিরে ভিড় করেন অনেকেই। বহ্নিশিখার দাবির স্বপক্ষে সাক্ষরও করে যান বহু মানুষ। হায়দরাবাদের ঘটনার নিন্দায় সরব হন। প্রত্যেকেই বিকেল থেকে সন্ধে পর্যন্ত ঘড়ি মোড়ে বসেছিলেন বহ্নিশিখা। 

পরে ক্ষুব্ধ বহ্নিশিখা বলেন, 'পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে এর পর রাস্তায় বেরিয়ে নিজের ছায়াকে দেখলেও ভয় পাব। যাঁরা ধর্ষক তাদের বিচার না করে সরকার আমাদের হাতে তুলে দিক।' ধর্ষণের মতো ঘটনার পরে অনেক ক্ষেত্রেই যেভাবে মেয়েদের পোশাক, আচার, আচরণ নিয়ে উল্টে প্রশ্ন তোলা হয়, তাঁরও প্রতিবাদ করেন বহ্নিশিখা। 

এ দিন রাজধানী দিল্লিতেও বহ্নিশিখার মতোই এক তরুণী হায়দরাবাদের ঘটনার প্রতিবাদে সংসদ ভবনের গেটের সামনে ধর্নায় বসেন। তাঁকে জোর করে তুলে দেয় পুলিশ। অভিযোগ, থানায় নিয়ে গিয়ে তরুণীকে বেধড়ক মারধর করা হয় ওই তরুণীকে।