বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের সোমসার গ্রাম। এই গ্রামেই দামোদর নদের তীরে পালদের বিশাল জমিদার বাড়ি। নদের তীরে পাল জমিদারদের বিশাল এস্টেট গড়ে উঠেছিল বিলেতে কাপড় ব্যবসার সৌজন্যে। দামোদর নদ দিয়ে বজরায় করে দেশ বিদেশে কাপড় পাঠাতেন পালরা কাপড়ের ব্যবসায় সুনাম ছিল পাল জমিদারদের। তখনকার বিলেতি কাপড়ের ব্যবসায় ফুলেফেঁপে উঠেছিল জমিদার বাড়ির কোষাগার। 

পাল বংশের আদি পুরুষ চন্দ্রমোহন পাল। তাঁর সময়ে পাল বংশের কাপড় ব্যবসার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল দেশ বিদেশে। একাধিক স্থানে বড় বড় বাড়ি এবং বর্ধমান রাজার কাছ থেকে ছ'টি তালুকদার কিনে বেড়েছিল পাল জমিদারদের সম্পত্তির বহর। সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জমিদার বাড়িতে শুরু হয় পুজো অর্চনা। জমিদার বাড়ির অলিন্দেই তৈরি হয় দুর্গামণ্ডপ। সেই মণ্ডপে ধুমধাম করে দুর্গাপুজোতে উৎসবের আমাজে ভাসতেন জমিদার ও জমিদার বাড়ির সদস্য ও এলাকার মানুষ। তখনকার পুজোর আয়োজনে কোনও কিছুর খামতিও ছিল না। বজরায় করে আসা কাপড় বিলি করা হতো এলাকার মানুষকে। পুজোতে আলোর রোশনাই, নহবতের সুর, যাত্রাপালা, কবিগান, তরজা সবমিলিয়ে গমগম করতো পালদের দুর্গা মণ্ডপ এবং জমিদার বাড়ি। 

এখন সে সবই ইতিহাস। ৩০০ বছরের সুদীর্ঘ পাল জমিদারদের কাহিনি এখন শুধু ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রাচীন দেওয়াল থেকে খসে পড়া এক একটা ইট মনে করিয়ে দিচ্ছে পাল জমিদারদের নানান স্মৃতি। ঝোপঝাড় এবং ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া প্রাচীন বাড়িগুলি মনে করিয়ে দিচ্ছে পালেদের ইতিকথা।  আজ জমিদার নেই, কিন্তু সেই জমিদারদের প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন দুর্গা পুজো আজও আঁকড়ে রেখেছে বর্তমান প্রজন্ম। জমিদারদের ভাঙ্গাচোরা দুর্গা দালানে আজও বিরাজমান দেবী দুর্গা। সেই জেল্লা নেই, কিন্তু রয়েছে ঐতিহ্য এবং আভিজাত্য। 

প্রাচীন নিয়ম মেনেই আজও দেবী দুর্গা পুজিত হচ্ছেন বর্তমান প্রজন্মের হাতে। বাইরে থাকা পরিবারর  সদস্য এবং আত্মীয় ও এলাকার মানুষ পুজোর কটা দিন সেই অতীতের দিনগুলিতেই যেন ফিরে যান। এভাবেই আজও চলে আসছে পাল বংশের দুর্গাপুজো।