দাম্পত্য জীবনে সুখ ছিল না। বরং স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ি লোকেদের অত্যাচার অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের দুর্দশার কথা জানিয়ে আত্মহত্যা করলেন এক শিক্ষক। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের হবিবপুরের বুলবুলচণ্ডী এলাকায়। মৃতের শ্যালককে আটক করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: পদে বসেই বিপদের মুখে, দুর্ঘটনায় মৃত বিজেপির জেলা সভাপতি

মৃতের নাম দেবাশিস পোদ্দার। বাড়ি, মালদহের বুলবুলচণ্ডী এলাকার পূর্বপাড়ায়। স্থানীয় একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক ছিলেন দেবাশিস।  স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন তিনি।  কিন্তু বিবাহিত জীবনে একেবারেই সুখী ছিলেন না। স্থানীয় বাসিন্দারের দাবি, বিয়ের পর থেকে দেবাশিসের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর বনিবনা ছিল না। স্বামীর সঙ্গে নানা অছিলায় অশান্তি করতেন দেবাশিসের স্ত্রী। এমনকী, একই বাড়িতে থাকলেও দুই সন্তানকেও বাবার ধারেকাছে যেতেন দিতেন না  ওই মহিলা। স্ত্রীর অত্যাচারে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন প্রাথমিক স্কুলের ওই শিক্ষক।  দেবাশিসের শ্বশুরবাড়ির লোকেদের কথা বলে বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করেছিলেন প্রতিবেশীরা। কিন্তু তাতে সমস্যা তো মেটেইনি, উল্টে  শ্বশুরবাড়ির লোকেরাও ওই প্রাথমিক শিক্ষকের উপর অত্যাচার করতে শুরু করেন। অন্তত তেমনই অভিযোগ পাড়া প্রতিবেশীদের।

জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে প্রাথমিক শিক্ষকদের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে নিজের দুর্দশা কথা জানান দেবাশিস পোদ্দার।  তিনি লেখেন, 'আমাকে আমার বউ ও শ্বশুরবাড়ির লোকে বারবার অপমান করে। বলে, আমি  চরিত্রহীন... বহু নারীর সঙ্গে আমার খারাপ সম্পর্ক আছে...তারা আমাকে মরতে বলে....আমি কি করব? আমার সবাই ক্ষমা করো। বড় শ্যালক নরোত্তম সরকার ফোনে থ্রেট করে। আমার মৃত্যুর জন্য ওরা দায়ী।'  এই বার্তা ছড়িয়ে পড়তেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়। গ্রুপে পাল্টা বার্তা পাঠিয়ে ওই প্রাথমিক শিক্ষককে  'খারাপ' কোনও পদক্ষেপ না করার জন্য অনুরোধ করেন অনেকেই। বিভিন্নভাবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগেরও চেষ্টা শুরু হয়ে যায়। শেষপর্যন্ত শুক্রবার গভীর রাতে যখন এক প্রতিবেশী দেবাশিস পোদ্দারের বাড়িতে পৌঁছন, তখন আর কিছু করার ছিল না। জানলার ফাঁক দিয়ে ওই প্রাথমিক শিক্ষককে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।  দেবাশিস পোদ্দারের  স্ত্রী ও শ্যালকের বিরুদ্ধে হবিবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের পরিবারের লোকেরা। আটক করা হয়েছে  শ্যালক নরোত্তম সরকারকে।