পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) জন্য অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগের অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টের আর্জি মেনে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকেও বিচারক আনা যাবে। রাজ্যের তৃণমূল সরকার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

 পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি চাইলে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ খতিয়ে দেখার জন্য অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ করতে পারবেন। প্রয়োজনে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকেও বিচারক আনা যাবে। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টকে জানান, ভোটার তালিকার 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' (SIR) প্রক্রিয়ায় 'লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি' বিভাগে প্রায় ৫০ লক্ষেরও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে।

 এই বিপুল পরিমাণ অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য যথেষ্ট সংখ্যক অফিসার নেই। হাইকোর্ট জানিয়েছিল, ২৫০ জন বিচারবিভাগীয় অফিসার দিয়ে এই কাজ করালেও প্রায় ৮০ দিন সময় লাগবে। এই সমস্যার কথা শুনেই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। রাজ্যের তৃণমূল সরকার একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে রাজ্যের যোগ্য ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত হল। নির্দেশিকায় যা যা বলা হয়েছে: বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এখন থেকে তিন বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সিভিল জজদের এই কাজে নিয়োগ করতে পারবেন। তাতেও কাজ না হলে, শেষ উপায় হিসেবে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার মতো প্রতিবেশী রাজ্য থেকে বিচারক আনার কথাও ভাবতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) বা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (AERO) কাছে অনলাইন বা অফলাইনে যে সব নথি জমা পড়েছে, তার সবই বিবেচনা করতে হবে। 

ECINet পোর্টালে সেই নথি আপলোড করা হয়েছে কি না, তা বড় কথা নয়। কারণ, প্রযুক্তিগত সমস্যার জন্য আচমকাই ওই পোর্টালে নথি আপলোড করার অপশন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আদালত আরও জানিয়েছে, ERO এবং AERO-রা যদি সার্টিফিকেট দিয়ে জানান যে ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নথি জমা পড়েছে, তাহলে সেটাই চূড়ান্ত বলে ধরা হবে এবং বিচারবিভাগীয় অফিসারদের তা বিবেচনা করতে হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে নির্বাচন কমিশনের ২৭ অক্টোবর, ২০২৫ এবং ২৪ জুন, ২০২৫ তারিখের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট ১২টি নথিই প্রমাণপত্র হিসেবে গ্রাহ্য হবে। এর সঙ্গে পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ড এবং আদালতের ১৯ জানুয়ারির নির্দেশ অনুযায়ী মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডও যোগ করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, প্রথম ভোটার তালিকা ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করতে হবে। এরপর সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে, যা চূড়ান্ত ভোটার তালিকারই অংশ হিসেবে গণ্য হবে। সংবিধানের ১৪২ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে আদালত জানিয়েছে, সাপ্লিমেন্টারি তালিকার ভোটাররাও চূড়ান্ত ভোটার তালিকার অংশ হবেন এবং ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই তালিকাটি প্রকাশিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। এর ফলে ভোটারদের ভোট দেওয়ার অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।