Adani in Bengal: বুধবার প্রায় ৫৮০ একর জমি ৩৩টি শিল্প প্রকল্পের জন্য হস্তান্তরের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সরকারের দাবি, এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে রাজ্যে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও বিনিয়োগ টানতে একের পর এক বড় উদ্যোগের কথা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি ও অনন্ত আম্বানির সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্যে চার-পাঁচটি ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, আগামী সপ্তাহেই রিলায়েন্সের একটি বড় প্রতিনিধিদল বাংলায় এসে সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলি খতিয়ে দেখবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রতিনিধিদলটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করে রিপোর্ট তৈরি করবে এবং প্রস্তাব জমা দেবে। পরবর্তী পর্যায়ে মুকেশ আম্বানির নেতৃত্বে পুরো দল রাজ্যে এসে একাধিক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
বাংলায় আসছেন গৌতম আদানি
রিলায়েন্সকে ঘিরে এই ঘোষণার মধ্যেই বৃহস্পতিবার কলকাতায় এসেছেন শিল্পপতি গৌতম আদানি। নিউ টাউনে আদানি গোষ্ঠীর ২,০০০ শয্যার ‘আদানি আরোগ্য নিকেতন’ প্রকল্পের ভূমিপুজো ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা। প্রকল্পটি নিউটাউন অ্যাকশন এরিয়া-২ এলাকায় তৈরি হবে।
হাসপাতাল প্রকল্পের পাশাপাশি রাজ্যে অন্যান্য শিল্প ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
পুজোর আগেই নতুন শিল্প-জমি নীতি
এদিকে শিল্পের জন্য জমি পাওয়া সহজ করতে দুর্গাপুজোর আগেই নতুন শিল্প ও জমি নীতি আনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই নীতির খসড়া তৈরি হয়ে গিয়েছে বলে তাঁর দাবি। নতুন নীতিতে সরাসরি জমি কেনা, ল্যান্ড পুলিং এবং সিঙ্গল-উইন্ডো ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হবে।
সরকারের বক্তব্য, শিল্প সংস্থাগুলিকে জমি সংক্রান্ত জটিলতা থেকে দ্রুত বের করে এনে প্রকল্পের কাজ শুরু করার সুযোগ করে দেওয়াই এই নীতির অন্যতম লক্ষ্য। একইসঙ্গে জমির মালিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার কথাও বলা হয়েছে।
৩৩টি প্রকল্পে জমি হস্তান্তর
বুধবার প্রায় ৫৮০ একর জমি ৩৩টি শিল্প প্রকল্পের জন্য হস্তান্তরের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সরকারের দাবি, এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে রাজ্যে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে জমির মালিকদের কাছ থেকে সরাসরি জমি কেনা এবং ল্যান্ড পুলিংয়ের মতো পদ্ধতিতে এগোনোর কথাও জানানো হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, এর ফলে জমি নিয়ে বিরোধ ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানো সম্ভব হবে।
সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থায় জোর
নতুন শিল্প-জমি নীতিতে সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনাও রয়েছে। শিল্প সংস্থাগুলিকে যাতে বিভিন্ন দফতরে ঘুরে আলাদা আলাদা অনুমোদন নিতে না হয়, সেই প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা। অর্থাৎ, রিলায়েন্স ও আদানির মতো বড় শিল্পগোষ্ঠীকে বিনিয়োগে আগ্রহী করা থেকে শুরু করে জমি ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সরল করা— শিল্পায়নের ক্ষেত্রে একাধিক পদক্ষেপের কথা সামনে আনছে রাজ্য সরকার।
