বাইক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি। কিন্তু মৃত্য়ুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েও পেরে ওঠেনি। সেখানেই ব্রেন ডেথ হয় ভাটপাড়ার সংগ্রাম ভট্টাচার্যের। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতেই মানবিক সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। করোনা আবহের মধ্য়েই ব্রেন ডেথ হওয়া সংগ্রামের অঙ্গদান করে পরিবার। যদিও, মৃত্য়ুর আগে থেকেই অঙ্গদান অঙ্গিকার করেছিলেন সংগ্রাম নিজেই। হৃদপিণ্ড, লিভার, কিডনি সহ তাঁর শরীরের সাতটি অঙ্গ দান করে পরিবার।

আরও পড়ুন-করোনা আবহেই অঙ্গদান করে আবারও নজির গড়ল এক পরিবার
ভাটপাড়ার তরতাজা যুবক সংগ্রাম ভট্টাচার্যের মৃত্য়ুর পরই ফেসবুকে সমবেদনা জানান তাঁর বন্ধু ও অনুগামীরা। পরিবারের অঙ্গদানের সিদ্ধান্তকে কুর্ণিশ জানান তাঁরা। সুমন্ত চট্টোপাধ্য়ায় নামে একজন অনুরাগী সংগ্রামের ফেসবুকে ওয়ালে লিখেছেন, ''ভাই সংগ্রাম এত তাড়াতাড়ি আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলি, তোর অকাল প্রয়াণ কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না''। অভিক জানা বলে আরও এক অনুরাগী লিখেছেন, '' আমি গর্বিত যে সংগ্রাম ভট্টাচার্য আমার দাদা, কত মানুষের জীবন বাঁচিয়ে দিয়ে গেছে, আমার দাদা যে কাজটা করে গিয়েছেন তার জন্য় আমি গর্বিত''।

আরও পড়ুন-অন্যের শরীরে বেঁচে থাকুক সংগ্রাম, পথ দুর্ঘটনায় ছেলের ব্রেন ডেথের পর অঙ্গদান করে জানালেন বাবা-মা

সংগ্রামের মৃত্য়ুর পর তাঁর ফেসবুকে ওয়ালে কেউ কেউ পুরনো স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন। জনসমক্ষে উজাড় করে লিখেছেন পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর কথা। আবার তাঁর অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত যেন তাঁকে অমরত্ব প্রদান করেছে বলেও লিখেছেন অনেকে। কৌশিক দাস নামে আরও এক অনুরাগী লিখেছেন, ''আমাদের সংগ্রাম অমর হয়ে রইল''
 
করোনা আবহের মধ্য়েও অঙ্গদানের নজির তৈরি করেছেন সংগ্রাম ভট্টাচার্য। তাঁর এই মহান উদ্য়োগকে স্বাগত জানিয়ে কেউ কেউ লিখেছেন''তুমি এভাবেই বেঁচে থাকবে সবার মধ্য়ে''