পূর্ব মেদিনীপুরের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার প্রথমে দুপুর ১২টা নাগাদ ভগবানপুরের আশ্রয় শিবিরে যান রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানে আশ্রয় নেওয়া বন্যার্তদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন তিনি।
পূর্ব মেদিনীপুরের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার প্রথমে দুপুর ১২টা নাগাদ ভগবানপুরের আশ্রয় শিবিরে যান রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানে আশ্রয় নেওয়া বন্যার্তদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন তিনি।
বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পটাশপুরে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল
এরপর মোহাম্মদপুর ও পটাশপুরের আমগেছিয়া এলাকায় কেলেঘাই নদীর বাঁধ পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি নদী তীরবর্তী এলাকার বন্যার্ত সাধারণ মানুষের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। কেলেঘাই নদী পরিদর্শনের পর অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, নদীর গর্ভে থাকা সমস্ত অবৈধ ইটভাটা অবিলম্বে সরিয়ে নিতে হবে। তা না হলে প্রয়োজনে বুলডোজার চালানোর হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
পাশাপাশি পটাশপুরের নৈপুর-সহ বিস্তীর্ণ বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী। পরিদর্শনের পর সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে রিপোর্ট করবেন বলে জানান তিনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হলদিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকেও তিনি যোগ দেবেন। মন্ত্রী জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের জন্য শুকনো খাবার, পানীয় জল, ওষুধ ও ত্রিপল বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পটাশপুরের বারচৌকা বেসিনে নিচু এলাকার প্রায় ৪০টি পরিবারকে ইতিমধ্যেই নিরাপদ উঁচু জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জেলা জুড়ে প্রায় এক হাজার মানুষকে সরানো হয়েছে উচু জায়গায়।
পটাশপুরে বন্যা পরিস্থিতি
ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কায় আতঙ্কিত পটাশপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পটাশপুর-১ ব্লকের নৈপুর, গোপালপুর, গোকুলপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা ও ঘরবাড়ি জলের তলায়। কোথাও রাস্তা ডুবে সেই জল হু হু করে ঢুকে পড়ছে গ্রামের ভিতরে। ইতিমধ্যেই বহু বাড়িতে জল ঢুকে পড়ায় ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে যেতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
চাষের জমি জলের তলায় চলে যাওয়ায় মাথায় হাত কৃষকদের। একদিকে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা, অন্যদিকে বাড়িতে জল—সব মিলিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে সাধারণ মানুষের। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পটাশপুর-বালিচক রাজ্য সড়কে। রাস্তার উপর এক কোমরেরও বেশি জল জমে থাকায় স্বাভাবিক যান চলাচল কার্যত বিপর্যস্ত। বাধ্য হয়ে ট্রাক্টর, চারচাকা কিংবা বাইকে করে ঝুঁকি নিয়ে জল পারাপার করছেন মানুষজন। এই পরিস্থিতিতে যেকোনও সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।
পটাশপুরের টেপরপাড়া এলাকাতেও রাস্তা ডুবে জল ঢুকছে গ্রামের ভিতরে। জল বাড়তে থাকায় আতঙ্ক আরও বাড়ছে নদী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। অন্যদিকে, কেলেঘাই নদীর জল হু হু করে বাড়ছে। ২০২১ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি এখনও পটাশপুরবাসীর মনে তাজা। বছর ঘুরে বর্ষা এলেই নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়—ফের কি সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে?


