গঙ্গাসাগরের পুণ্য়স্নানে গিয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাটা অস্বাভাবাবিক নয়। অনেক সময় বিশেষ চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে প্রাণ হারাতে হয় তীর্থযাত্রীদের। দ্রুত কলকাতার হাসপাতালে পৌছতে না পারায় অতীতে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই। এবার সেকারণে এয়ার অ্য়াম্বুল্যান্সের বয়বস্তা করেছে রাজ্য় সরকার। শুক্রবার যার দৌলতে প্রাণে বাঁচলেন দুই তীর্থ যাত্রী। 

জানা গেছে, রবিবার বিকেলেই মেলায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন দুই পুণ্যার্থী। দ্রুত তাঁদের গঙ্গাসাগর প্রাঙ্গণ থেকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে কলকাতার হাসপাতালে পাঠাতে সক্ষম হয় উদ্য়োক্তারা। অসম থেকে অনিমা দাস নামের বছর সাতান্নর মহিলা এসেছিলেন গঙ্গাসাগরে। মকর সংক্রান্তি তিথিতে গঙ্গা সাগরে পুন্যস্নান করাই উদ্দেশ্য ছিল তাঁর। কপিল মুনির মন্দিরে পুজো দিয়ে ফিরে যেতেন বাড়িতে। কিন্তু শুক্রবার দুপুরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রক্তচাপ  কমে যাওয়ার পাশাপাশি  শরীরও স্বাভাবিকের তুলনায় ঠাণ্ডা হয়ে পড়ছিল তাঁর।

সাগর প্রাঙ্গণের হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাতেও সেভাবে সাড়া দিচ্ছিলেন  না তিনি। ৪৮ ঘণ্টা হয়ে গেলেও  শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাঁকে এয়ার অ্য়াম্বুল্যান্সে করে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়। একই অবস্থার শিকার হন হাওড়ার আমতার বাসিন্দা বিকাশ বেজ। এদিন গঙ্গাসাগর মেলায় বেড়াতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। তাঁকেও জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

মেলায় আসা পুণ্য়ার্থীরা জানান, এ বারের গঙ্গাসাগর মেলাকে অন্যান্য বারের তুলনায় অনেক বেশি অত্যাধুনিক করে গড়ে তুলেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। তবে এসবের মধ্যে মেলায় পুণ্য়ার্থীদের স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর যথেষ্ট জোর দিয়েছে রাজ্য়  সরকার। গঙ্গাসাগর মেলায় পর্যাপ্ত হেলথ ক্যাম্প, হাসপাতাল , আইসিইউ সহ অত্যাধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা করা হলেও গুরুতর অসুস্থ তীর্থযাত্রীদের জন্য এয়ার অ্যাম্বুল্য়ান্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিবারেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই এয়ার অ্য়াম্বুল্যান্সের ব্য়বস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার জেলাশাসক ডঃ পি উল্গানাথন।