Ambuja Neotia Exhibition: এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ স্থপতি রাজীব কাঠপালিয়া—যিনি 'বাস্তু শিল্প কনসালট্যান্টস'-এর অংশীদার এবং বি.ভি. দোশীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। প্রখ্যাত স্থপতি প্রবীর মিত্রের স্মরণে প্রবর্তিত এই পুরস্কারটি এমন একজন প্রতিশ্রুতিশীল স্থপতিকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়।
Ambuja Neotia Exhibition: অম্বুজা নেওটিয়া গ্রুপ ‘বি.ভি. দোশি মেমোরিয়াল এক্সিবিশন’-এর তৃতীয় সংস্করণটি শুরু হল রাজকুটির-এর ‘রঙ্গমঞ্চে’। ভারতের প্রথম প্রিৎজকার পুরস্কারজয়ী স্থপতি বালকৃষ্ণ ভি. দোশির দীর্ঘস্থায়ী এবং অনন্য অবদানকে সম্মান জানাতেই এই বার্ষিক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে (Ambuja Neotia Exhibition)। শ্রেষ্ঠত্ব, সততা এবং সমাজের সঙ্গে গভীর সম্পৃক্ততা—এমন সব গুণসম্পন্ন কাজের অধিকারী স্থপতিদের স্বীকৃতি জানানোর যে ধারা অম্বুজা নেওটিয়া গ্রুপ বজায় রেখেছে, তারই ধারাবাহিকতায় এবারের প্রদর্শনীতে ‘MADe’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান স্থপতি মধুসূদন চালাসানীর কাজও তুলে ধরা হয়েছে। ইভেন্টটি অনুষ্ঠিত হয় শনিবার (Ambuja Neotia exhibition Kolkata)।
অম্বুজা নেওটিয়া গ্রুপের উদ্যোগে শুরু হল তৃতীয় বি. ভি. দোশি স্মারক প্রদর্শনী
এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অম্বুজা নেওটিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান শ্রী হর্ষবর্ধন নেওটিয়া বলেন, “বি.ভি. দোশি মেমোরিয়াল এক্সিবিশন আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র একজন অসাধারণ স্থপতিকে স্মরণ করা নয়। বরং, তাঁর অনুপ্রেরণায় শুরু হওয়া চিন্তাভাবনা এবং আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এবারের প্রদর্শনী এবং ‘প্রবীর মিত্র মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’-এর মাধ্যমে আমরা এমন স্থাপত্যশৈলীকে উদযাপন করছি, যা মানুষকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখে। পাশাপাশি জনপরিসরের সঙ্গে চিন্তাশীলভাবে সম্পৃক্ত হয় এবং সমাজে অর্থবহ একটি অবদান রাখে।”
'ইন পারস্যুট অফ পাবলিকনেস' (In Pursuit of Publicness) শিরোনামের এই প্রদর্শনীটি স্থাপত্যকে সমষ্টিগত জীবনের একটি কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করে মধুসূদন চালাসানি এবং 'মেইড' (MADe)-এর দীর্ঘদিনের গবেষণাকে তুলে ধরছে। বাস্তবায়িত ও অবাস্তবায়িত প্রকল্প, নকশা, মডেল এবং গবেষণার মাধ্যমে প্রদর্শনীটি একটি বিষয়কে অন্বেষণ করে, ঠিক কীভাবে স্থাপত্য এমন সব স্থান তৈরি করতে পারে যা উন্মুক্ত ও অভিযোজনক্ষম থাকে এবং জনপরিসরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকে। এই প্রদর্শনী প্রসঙ্গে স্থপতি মধুসূদন চালাসানি জানান, “জনপরিসর বা 'পাবলিকনেস' কোনও ঘোষিত বিষয় নয়। বরং, এটি নির্মিত হয়—শূন্যস্থান, সংযোগ-সীমানা (thresholds) এবং এমন সব রাস্তার মধ্য দিয়ে যা একটি ভবনের ভেতর দিয়েও শহরের প্রবাহকে অব্যাহত রাখে। এই প্রদর্শনীটি সেই দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের প্রচেষ্টাকে—যার বেশিরভাগই বাস্তবায়িত হয়নি—একত্রিত করে; এটি এমন একজন স্থপতির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা, যিনি নির্মিত কাঠামোকে যৌথ জীবনের পটভূমি হিসেবে দেখেছিলেন।"

অপরুপ শিল্পের ছোঁয়া
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ স্থপতি রাজীব কাঠপালিয়া—যিনি 'বাস্তু শিল্প কনসালট্যান্টস'-এর অংশীদার এবং বি.ভি. দোশীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। উপস্থিত ছিলেন রাধিকা দোশী, যিনি বি.ভি. দোশীর কন্যা ও রাজীব কাঠপালিয়ার স্ত্রী। এদিন সন্ধ্যায় মর্যাদাপূর্ণ 'দ্বিতীয় প্রবীর মিত্র মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড'টিও প্রদান করা হয়। প্রখ্যাত স্থপতি প্রবীর মিত্রের স্মরণে প্রবর্তিত এই পুরস্কারটি এমন একজন প্রতিশ্রুতিশীল স্থপতিকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়। যার কাজে নকশাগত উৎকর্ষ, দায়িত্বশীল কর্মপদ্ধতি এবং নির্মিত পরিবেশের (built environment) ক্ষেত্রে অর্থবহ অবদান পরিলক্ষিত হয়। চলতি বছরের পুরস্কার বিজয়ী হলেন 'কিউএক্স ডিজাইন' (QX Design)-এর প্রধান স্থপতি ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা উদিত মিত্তাল; স্থপতি অবিন চৌধুরী, বিবেক সিং রাঠোর, পৃথ্বীজিৎ কুণ্ডু, পার্থ রঞ্জন দাস এবং সুবীর কুমার বসুর সমন্বয়ে গঠিত এক বিশিষ্ট বিচারক প্যানেল তাঁকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করেন।
বুদ্ধর পবিত্র প্রতীকের প্রদর্শনী, দেশ-বিদেশি পর্যটকের ভিড় উপচে পড়ছে ভিয়েতনামে
স্থপতি, নকশা, শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ এবং সংস্কৃতি-চিন্তকদের এক ছাদের নিচে নিয়ে এসে এই সান্ধ্য আয়োজনটি স্থাপত্য বিষয়ক আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়া এবং উন্নততর শহর ও সমৃদ্ধ জনজীবন গড়ে তোলে এমন সব কাজের স্বীকৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে ‘অম্বুজা নেওটিয়া গ্রুপ’-এর অঙ্গীকারকে সবার সামনে তুলে ধরেছে। এই প্রদর্শনীটি ২৩ অগাস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ‘স্বভূমি’-র ‘কালাবাণী’-তে চলবে। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার, বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা অবধি এবং শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত, দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা অবধি সাধারণ মানুষ এই প্রদর্শনীটি দেখতে পারবেন।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

