মঙ্গলবার ভারতের ৩২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে লকডাউন প্রোটোকল জারি করা হয়েছে। আরও বেশ কিছু জায়গায় মানুষের জমায়েত সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। পাঁচদিন আগে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আশ্বাস দিয়েছেন লক ডাউন হলেও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের জোগানের অভাব হবে না। কিন্তু, তারপরেও জোগান কতটা থাকবে, তার উপর ভরসা করতে পারছেন না অনেকেই। ইতিমধ্যেই, দোকানে দোকানে জিনিসপত্রের অভাব দেখা দিয়েছে। এই সঙ্কটের সময়ে তাদের পাশে দাঁড়াল দার্জিলিংয়ের বিখ্যাত বেকারি গ্লেনারি'স।

এক ফেসবুক পোস্টে তারা জানিয়েছে, লকডাউনের মধ্যে তাদের বেকারি অভাবী মানুষকে সকাল ৬ টা থেকে ভাড়ার শেষ না হওয়া অবধি বিনামূল্যে রুটি দেবে। সমাজকে সহায়তা করার জন্য এটি এই বিখ্য়াত বেকারির পক্ষ থেকে ছোট প্রচেষ্টা বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া এই সময়ে বেকারিতে আসলে সকলকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আবেদনও করা হয়েছে।

গ্লেনারিজ-এর এই মানবিক পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী। সরকারের পক্ষ থেকে বার বার রেশন, মুদি, সংবাদপত্র, বিদ্যুৎ, জল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত পরিষেবাগুলি চালু থাকার কথা বলা হলেও মানুষ সেভাবে আশ্বস্ত হতে পারেনি। যে কোনও বিপর্যয়ের সময়ই যেরকম 'প্যানিক বায়িং' বা আতঙ্কে কেনাকাটা করতে দেখা যায় মানুষকে, কোভিড-১৯'এর প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে জারি করা লক ডাউনের মধ্যে মানুষকেও সেই ভাবে কয়েকদিনের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রি কিনে রাখতে দেখা গিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গেও গত দু-তিনদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় একই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। রেশন দোকানগুলি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। মুদি দোকানে কিলো কিলো চাল, ডাল, আটা, ময়দা, তেল বিক্রি হয়েছে। ফলে, পরের দিকে বিভিন্ন জিনিস কিনতে গিয়েই সমস্যায় পড়েছেন বহু মানুষ। তাছাড়া, দিন আনা দিন খাওয়া বহু মানুষ আছেন, যাঁদের পক্ষে কয়েকদিনের মতো সামগ্রি সংগ্রহ করে রাখাটা সম্ভবপর নয়। কাজেই গ্লেনারি'স-এর এই উদ্যোগ বহু মানুষের কাজে আসবে, তা বলাই বাহুল্য।