ঘরে ফিরতে পরিযায়ী শ্রমিকরা মাইলের পর মাইল হেঁটেছেনএবার ডাকাতি করতে একজন চোরাই সাইকেলে এলেন ৬০০ কিলোমিটারউত্তরপাড়ায় এই ডাকাতির ঘটনা নিয়ে পড়েছে শোরগোলপুলিশ অবশ্য তিন সাগরেদ-সহ সেই ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে 

গত কয়েক মাসে ভিন রাজ্য থেকে বহু সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিককে নিজের রাজ্যে ফিরতে দেখা গিয়েছে। অনেকেই মাইলের পর মাইল হেঁটেছেন। কিন্তু, ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে কেউ চোরাই সাইকেলে ৬০০ কিলোমিটার পারি দেবেন, এমনটা হয়তো কেউ কল্পনাই করতে পারেননি। কিন্তু এমন এক ঘটনতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে উত্তরপাড়ায়। বিহার থেকে উত্তরপাড়ায় শ্বশুরবাড়িতে এসে ডাকাতি করতে গিয়ে তিন সাগরেদ-সহ গ্রেফতার হল বছর ৩০-এর এক যুবক।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

চন্দননগর পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, ওই ডাকাতের নাম প্রীতম ঘোষ। পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশায় এর আগে বেশ কয়েকটি ডাকাতির মামলায় সে অভিযুক্ত। ওড়িশার এক জেল থেকে পালিয়ে এতদিন সে বিহারে লুকিয়ে ছিল বলেই মনে করছে পুলিশ। কিন্তু লকডাউনে ধীরে ধীরে তার হাতে জমা থাকা টাকা ফুরিয়ে আসছিল। তাই সে নতুন ডাকাতির পরিকল্পনা করে।

বিহারের রাজাপাকর অঞ্চলের বাসারা গ্রাম থেকে একটি সাইকেল চুরি করে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার উত্তরপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। উত্তরপাড়াতেই তার শ্বশুরবাড়ি। জানা গিয়েছে প্রথমে সে পরিযায়ী শ্রমিকের ছদ্মবেশে বাসে আসার কথা ভেবেছিল। কিন্তু, পরে ভয় পায়, সীমান্তে তল্লাশির সময় তাকে চিনে ফেলবে পুলিশ। তারপর পরিযায়ীদের শ্রমিকদের হেঁটে আসার কাহিনীতে অনুপ্রাণিত হয়ে সে সাইকেল চালিয়ে আসার পরিকল্পনা করে।

গত বুধবার সে তিনদিনের সাইকেল যাত্রার পর উত্তরপাড়া এসে পৌঁছেছিল। তারপরি সেখানে তার পুরানো তিন সঙ্গী - সঞ্জয় পাসওয়ান, সঞ্জিব পাসওয়ান ও তাপস দাশকে ডেকে নিয়েছিল। তাদের সঙ্গেই ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিল। শুক্রবার হানা দেয় উত্তরপাড়ার ইউনিয়ন ব্যাঙ্কে।

উত্তরপাড়া থানার ওসি এস পট্টনায়ক জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে একটি আগ্নেয়াস্ত্র-ও ছিল। ঘটনার দিন একটি গাড়ি নিয়ে তারা ব্যাঙ্কের সামনে যায়। প্রীতম গাড়িতেই ছিল। বাকিরা আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা লুট করে। পুলিশ তারমধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে। তাদের আগ্নেয়াস্ত্রটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যে সাইকেলটি চালিয়ে প্রীতম এসেছিল সেই সাইকেলটিকেও বাজেয়াপ্ত করা হবে। প্রীতম ও তার তিন সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রীতমের স্ত্রী এবং শাশুড়িকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার শ্বশুরবাড়ি থেকেই লুটের একটি বড় অংশ মিলেছে।