মুর্শিদাবাদে আবারও খুন এক তৃণমূল নেতা। শুক্রবার বিকেলে প্রকাশ্যেই হরিহরপাড়ার প্রদীপডাঙ্গা মোড়ে এক তৃণমূল নেতাকে হত্যা করল দুষ্কৃতীরা।  নিহত নেতার নাম সফিউল হাসান(৪৫)। তিনি তৃনমূল নেতা তথা শাসক দলের পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী।  প্রথমে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাঁর বুক লক্ষ্য করে পর পর কয়েক রাউন্ড গুলি করার পরে মৃত্যূ নিশ্চিত করতে বোমাও ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন- রণক্ষেত্র সদাইপুর, কাটমানি বিক্ষোভে ব্যাপক বোমাবাজি, পুলিশকেও আক্রমণের অভিযোগ

হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই আহত তৃণমূল নেতার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরেই বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে দুস্কৃতিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তার আগে স্থানীয় তৃণমুল কর্মীরা মৃতদেহ আটকে দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারের দাবিতে দীর্ঘক্ষণ হরিহরপাড়া-বহরমপুর রাজ্য সড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ ওঠে। ঘটনায় বিজেপি এবং কংগ্রেসের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমুল সভাপতি এবং মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ আবু তাহের খান বলেন, 'তৃণমুলকে শেষ করতে কংগ্রেস -বিজেপি মিলে এলাকায় এই কাণ্ড ঘটিয়ে চলেছে। তবে এভাবে মুর্শিদাবাদে তৃণমুলের ক্ষতি করা সম্ভব নয়।'

স্থানীয় সূত্রে খবর, শুক্রবার বিকেলের পরে হরিহরপাড়া থানার লালনগরের বাড়ি থেকে নিজের গাড়িতে চেপেই হরিহরপাড়া বাজারে যাচ্ছিলেন। সেই সময়ে মাঝ রাস্থায় প্রদীপডাঙ্গা মোড় এলাকায় প্রায় ৭-৮জন দুষ্কৃতীর একটি দল মারুতি ভ্যান নিয়ে এসে তৃণমূল নেতার পথ আটকায়। তারপর তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে প্রথমে গুলি করে ও পরে বোমা মেরে হত্যা করা হয়।

দিন কয়েক আগেই ডোমকলের কুচিয়ামোড় এলাকায় এক তৃণমুল নেতার বাড়িতে ঢুকে একসঙ্গে ৩ তৃণমুল কর্মীকে খুন করা হয়। এর পর পরই ডোমকল ১ নম্বর ধুলাউড়ি পঞ্চায়েতের তুলসিপুর এলাকায় নিদুভুষন মণ্ডল নামে এক তৃণমুল কর্মীর রহস্যমৃত্যু হয়। 

পাল্টা কংগ্রেস ও বিজেপির পক্ষে এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে অধীর চৌধুরীর রাজনৈতিক সচিব জয়ন্ত দাস ও জেলা বিজেপির সভাপতি গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় হরিহরপাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন নিহত নেতার স্ত্রী এবং হুমাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আরদোসা বিবি। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।