রবিবারও বদলালো না চিত্রটা। এদিন বিক্ষোভ অব্যাহত থাকল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। শনিবার দিনভর অশান্ত থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত। এদিনও সকাল থেকে রাস্তায় নেমে আসে আন্দোলনকারীরা। দফায় দফায় চলতে থাকে সড়ক ও রেল অবরোধ।

নাকরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে  সকাল থেকেই  মুর্শিদাবাদে ছিল উত্তেজনা। জঙ্গিপুর- লালগোলা রাজ্য সড়ক অবরোধ করে চলতে থাকে বিক্ষোভ। ক্রমেই আয়ত্তের বাইরে যাচ্ছে মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি। রঘুনাথগঞ্জ ও ইসলানমপুরেও চলে পথ অবরোধ। তৃণমূল ব্লক সভাপতির বাড়িতে বিক্ষোভকারীরা হামলাও করে বলে অভিযোগ। 

রবিবার অশান্ত ছিল বীরভূমের মুরারইও। মিত্রপুপ ও হিয়াতনগর মোড়ে রাস্তার উপর আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করা হয়। সকাল থেকেই তেতে ওঠে উত্তর চব্বিশ পরগনার খড়দহ, আমডাঙা ও দেগঙ্গা। আমডাঙার ধানকল ও সোনাডাঙা মোড়ে দীর্ঘক্ষণ চলে অবরোধ। ৩৫ নম্বর জাতীয় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে , গাছের গুড়ি ফেলে অবরোধ  করা হয়। 

এদিন সকাল থেকেই সিএবির প্রতিবাদে পথে নামে তৃণমূল কংগ্রেসও। পূর্ব ক্যানিংয়ের বিধায়ক তথা দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৃণমূল সভাপতি শওকত মোল্লার নেতৃত্বে নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে মিছিল বের হয়। রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়ের নেতৃত্বে মিছিল বেরোয় হাওড়ায়।

নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে যখন জ্বলছে রাজ্য তখন ক্ষতে প্রলেপ দিতে রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার ঝাড়খণ্ডে নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন মোদী। রাজ্যের অন্ডাল বিমানবন্দর থেকেই সড়কপথে ঝাড়খণ্ডে যাওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর। রাজ্যে নেমে তিনি কোন বার্তা দেন সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। এদিকে রাজ্যের পরিস্থিতি যাতে কোনওভাবেই আয়ত্বের বাইরে না যায় তার জন্য বার বার আবেদন করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যা। মাথা ঠান্ডা রেখে গণতান্ত্রিক ভাবে প্রতিবাদ আন্দোলনের কথা বলেছন মুখ্যমন্ত্রী।  পৃথক ভাবে রাজ্যে শান্তি বজায় রাখার আবেদন করেছেন  রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ও।