সাতসকালে এলাকায় বোমাবাজি। বোমাবাজি প্রাণ গেল এক তৃণমূল কর্মীর। গুরুতর আহত আরও একজন। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে নদিয়ার চাপড়ায়। বিজেপি বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতারা।

জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে চাপড়ার ব্রাহ্মনগর গ্রামে দলের পঞ্চায়েত বাড়িতে বৈঠক করে গিয়েছিলেন কয়েকজন তৃণমূলকর্মী। তাঁদের সকলেরই বাড়ি চাপড়ারই বেতবেরিয়া গ্রামে।  বৈঠক শেষে যখন গাড়ি করে ফিরছিলেন, তখন ওই তৃণমূলকর্মীদের উপর দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়া হয়। বোমার আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান রফিক শেখ নামে এক ব্যক্তি। ধারালো অস্ত্রে আঘাতে গুরুতর জখম শাসকদলের আরও এক কর্মী।  রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় চাপড়া হাসপাতালে। পরে স্থানান্তরিত করা হয় কৃষ্ণনগর জেলা হাসপাতালে। আহত ওই তৃণমূলকর্মীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকা।

কিন্তু প্রকাশ্যে দিবালোকে তৃণমূলকর্মীদের কারা হামলা চালাল? বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেসে স্থানীয় নেতৃত্ব। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। 

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ভোরে নদিয়ার শান্তিপুরে তৃণমূল বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্যে গাড়িতে ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতীরা। বোমা পড়ে বিধায়ক ঘনিষ্ট  এক ব্যক্তির বাড়িতে। ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা অভিযোগে শান্তিপুর থানায় ধরনায় বসেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য। 

গত বিধানসভা ভোটে শান্তিপুর থেকে বাম-কংগ্রেস জোটপ্রার্থী হিসেবে বিধায়ক নির্বাচিত হন অরিন্দম ভট্টাচার্য। পরে তিনি  যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে। রাসমেলার উদ্বোধনে যখন শান্তিপুরে গিয়েছিলেন রাজ্যপা জগদীপ ধানকড়, তখন তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে দেখা গিয়েছিলেন শাসকদলের বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্যকে।  আর তাতে তৃণমূল বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন, এমন জল্পনা তৈরি হয় রাজনৈতিক মহল।