Pratikur Rahaman: আলিমুদ্দিনে কামান দেগে জবাব দিলেন বামেদের প্রাক্তন তরুণ নেতা? এই মুহূর্তে তিনি আমতলায়, তৃণমূলের পার্টি অফিসে। সেখানেই তিনি যোগ দিলেন জোড়াফুলে।

Pratikur Rahaman: প্রতিকুরের প্রতীক বদলাল (pratikur rahaman tmc)।আলিমুদ্দিনে কামান দেগে যোগ্য জবাব দিলেন বামেদের প্রাক্তন তরুণ নেতা? এই মুহূর্তে তিনি আমতলায়, তৃণমূলের পার্টি অফিসে। সেখানেই তিনি তৃণমূলের অন্যতম হেভিওয়েট নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হার ধরে যোগ দিলেন জোড়াফুলে (abhishek banerjee tmc)। 

লবিবাজি নিয়ে বিস্ফোরক প্রতিকুর!

নিঃসন্দেহে জল্পনার অবসান! প্রতিকুর রহমান যোগ দিলেন তৃণমূলে। সিপিএম যে শ্রেণির কথা বলে, সেই শ্রেণির নেতাই হারাল লাল ঝাণ্ডা। তাহলে কি ‘মধ্যবিত্তায়ন' প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে সিপিএমে? কারণ, সিপিএম যে শ্রেণির কথা বলে, সেই শ্রেণিরই নেতা ছিলেন প্রতিকুর। গরীব মুসলমান প্রতিবার থেকে উঠে আসা, আর্থ-সামাজিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির তরুণ নেতা হিসেবে নিজেকে যথেষ্ট প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন প্রতিকুর। আর সেই প্রতিকুরের সঙ্গেই দলের অন্দরে চরম অসভ্যতা? 

বাম মহলে লড়াকু হিসেবে যথেষ্ট শক্তিশালী পরিচিতি ছিল তাঁর। সেই তরুণ নেতার সঙ্গেই তাহলে অভব্য আচরণ দলের অন্দরে? ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। কার্যত, কোণঠাসা করে দেওয়া হয় প্রতিকুরকে, এমনটাই অভিযোগ তোলেন তরুণ নেতা। এবার যেন বিস্ফোরক প্রতিকুর যোগ্য জবাব দিলেন। ইতিমধ্যেই এসআইআর ইস্যুতে দেশের মধ্যে অন্যতম লড়াইয়ের মুখ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে প্রমাণ করেছেন। লড়েছেন সুপ্রিম কোর্টেও। এবাই সেই দলেই যোগ দিলেন প্রতিকুর। 

প্রসঙ্গত, এসআইআর ইস্যুতে প্রতিকুরের মুখে মমতা-অভিষেকের প্রশংসাও শোনা যায়। আর এবার সরাসরি তৃণমূলে যোগ দিলেন প্রতিকুর রহমান। এদিন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে তৃণমূলের পতাকা তুলে দিয়ে প্রতিকুরকে স্বাগত জানান দলে। 

“আলিমুদ্দিনে বসে থাকা নেতারা সব সার্টিফিকেট দেবে নাকি?” বললেন অভিষেক

তৃণমূলে যোগ দিয়ে প্রতিকুর বললেন, “বাংলার গৌরব যেটা নিয়ে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী লড়াই করছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াই করছেন এবং আমার মনে হয়েছে, এই মুহূর্তে বিজেপি যেভাবে মানুষের কণ্ঠরোধ করছে, সেই বিজেপিকে আটকানোর জন্য এবং প্রতিহত করার জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি হল তৃণমূল কংগ্রেস।"

অন্যদিকে, অভিষেক বলেন, “প্রতিকুরের মতো ছেলেরা হচ্ছে মাটির মানুষ। সিপিএম দলে যে কয়েকজন এই প্রজন্মের প্রতিনিধিরা রয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হল প্রতিকুর। মিটিং-মিছিলে ওদেরকেই দেখা যায়। বাকি তো সব স্নো-পাউডার মেখে টিভির পর্দায় কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপ্লব করে। প্রতিকুর বরাবর শালীনতা ছাড়িয়ে যায়নি। ব্যক্তিগত আক্রমণ করেনি। এসআইআর ইস্যুতে যেভাবে তৃণমূল লড়াই করেছে রাস্তায় এবং পার্লামেন্টে, সেইরকম কিছুই তো সিপিএম করেনি। ওদের আইডিওলজিটা কী? হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে মিটিং কোন আইডিওলজির বেসিসে? আবার কোন আইডিওলজির বেসিসে সিপিএম লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে ভিক্ষা বলে?"

তৃণমূল সাংসদের কথায়, “প্রতিকুর আমাকে নিজে এসে বলছে, দাদা আমি সংগঠন করব। টিকিট লাগবেনা। এতদিন ধরে দল করল। আপনি তো ছেলেটাকে চেনেনই না সেলিমবাবু। আপনি তাঁকে আগেই ঘোষণা করে দিলেন বেইমান। কারণ, সে আপনার স্তাবকে পরিণত হয়নি। হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মেলায়নি বলে? আজকালকার দিনে প্রতিকুরের মতো ছেলেদের কোথায় পাবেন? যাদের কোনও চাওয়া-পাওয়া নেই। নিঃস্বার্থভাবে মানুষের জন্য কাজ করতে চায়। আলিমুদ্দিনে বসে থাকা নেতারা সব সার্টিফিকেট দেবে নাকি? আপনাদের এত গাত্রদাহ কেন? মহম্মদ সেলিমের স্ট্যাম্পের জন্য অপেক্ষা করার দরকার নেই।”

সবমিলিয়ে, আলিমুদ্দিনে কামান দেগে প্রতিকুর বুঝিয়ে দিলেন, দলের অন্দরে অনেকেই মুখ খোলা শুরু করেছেন। আর তিনি মৌচাকে ঢিল মেরে সোজা যোগ্য জবাব দিয়ে কি চলে গেলেন তৃণমূলে? ভোটের আগেই চালিয়ে খেলা শুরু জোড়াফুলের। 

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।