Pratikur Rahaman Interview: এক্সক্লিউসিভ সাক্ষাৎকারে এশিয়ানেট নিউজ বাংলার মুখোমুখি হয়ে কী জানালেন এই তরুণ নেতা? দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের ‘পেয়ারের লোক' বলেও তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।
Pratikur Rahaman Interview: বিস্ফোরক? নাকি বোমা ফাটালেন আলিমুদ্দিনকে নিক্ষেপ করে? ঠিক কী বলা চলে? যেন দীর্ঘদিন ধরে দলের অন্দরে ঘটে চলা বেশ কিছু ঘটনা এক লহমায় সামনে চলে এল। সিপিএম-এর অন্দরে ‘লবিবাজি’-র শিকার এবং কোণঠাসা হওয়ার অভিযোগ বারবার সামনে আনেন তরুণ নেতা প্রতিকুর রহমান। এবার এক্সক্লিউসিভ সাক্ষাৎকারে এশিয়ানেট নিউজ বাংলার মুখোমুখি হয়ে কী জানালেন এই তরুণ নেতা (Pratikur Rahaman Exclusive)?
এই মুহূর্তে তিনি লাল ঝাণ্ডার প্রাক্তন সৈনিক! খোদ সিপিএম রাজ্য কমিটির সদস্য থাকাকালীনই তাঁর সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগ তোলেন প্রতিকুর। এমনকি, দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের ‘পেয়ারের লোক' বলেও তীব্র আক্রমণ করেন তিনি (pratikur rahaman tmc)।
এবার তৃণমূলে যোগ দিয়েই এশিয়ানেট নিউজ বাংলার প্রশ্নের উত্তরে মুখ খুললেন প্রতিকুর রহমান। এক্সক্লিউসিভ সাক্ষাৎকারে আবারও বিস্ফোরক ফর্মে মাটির নেতা প্রতিকুর?
প্রশ্নঃ তাহলে শ্রেণির নেতাকে ধরে রাখতে পারল না সিপিএম?
প্রতিকুরঃ “সিপিএম আমাকে বলল, তালাক, তালাক, তালাক! আর তৃণমূল বলল কবুল, কবুল, কবুল।"
প্রশ্নঃ এসআইআর ইস্যুতে লড়াই করতে ব্যর্থ সিপিএম?
প্রতিকুরঃ "একদমই তাই। সিপিএম কাগজে-কলমে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপ্লব করে। কিন্তু গ্রাউন্ড রিয়্যালিটি অন্য কথা বলে। সিপিএম অফিসে গাদা গাদা নোটস এসেছে গাদা গাদা সার্কুলার এসেছে এসআইআর নিয়ে। কিন্তু বাস্তবের মাটিতে সিপিএম কোনও কাজ করেনি। এই কথা তো অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই যে, এসআইআর ইস্যুতে একমাত্র রাস্তায় থেকেছে তৃণমূল। বিজেপিকে আটকানোর জন্য তৃণমূল যে লড়াইটা করছে, সেটা তো আপনি আটকাতে পারবেন না। উল্টোদিকে সিপিএম-এর ভোট রাতারাতি উবে গিয়ে বিজেপিতে পড়ছে।”

প্রশ্নঃ নতুন দলে প্রচুর দায়িত্ব, কীভাবে সামলাবেন?
প্রতিকুরঃ “প্রচুর দায়িত্ব না। কিছুটা দায়িত্ব তো আছেই। দায়িত্ববোধ আছে বলেই তো মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছি। সেই দায়িত্ববোধ নিয়েই আগামীদিনে কাজ করব।"
প্রশ্নঃ তাহলে আপনি বলছেন সিপিএম-এর অন্দরে প্রশ্ন তুললেই মুশকিল হয়ে যাচ্ছে?
প্রতিকুরঃ "আমি কখনও ব্যক্তিগত আক্রমণে বিশ্বাসী নই। আমি যখন প্রশ্ন তুলেছিলাম, তখন অনেকেই ভালোবেসেছিলেন। আবার যখন মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করেছিলাম, দলের রাজ্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলাম তখন অসংখ্য গালাগাল দিয়েছেন। এখন তৃণমূলে যোগদানের পর অনেকেই গালাগালি দিচ্ছেন ইনবক্সে। আপনাদের প্রতি আমি শ্রদ্ধশীল। কারণ, দলের প্রতি আপনাদের আনুগত্য ভালো দিক। শুধু একটাই কথা, আপনাদের এই আনুগত্য এবং আপনাদের দলের প্রতি এই ভালোবাসা কি আদৌ দল শুনছে? যদি দলের সদস্যদের কথাই দল না শোনে, তো মানুষের কথা কী শুনবে? উনি দলের কর্মী-সমর্থকদের মন বোঝেন না, হুমায়ুনের মন বুঝতে যান। অদ্ভুত!"

প্রসঙ্গত, ইয়েস ম্যান না হয়ে 'হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মেলাননি এবং অনেক নেতার শেখানো বুলি আওড়াতে পারেননি বলেই তাঁকে গোটা ডায়মন্ডহারবার লোকসভা এলাকায় আর ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলেও একাধিকবার অভিযোগ করেন প্রতিকুর। এমনকি, সিপিএম-এর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সম্পাদক রতন বাগচি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সিপিএম যে শ্রেণির কথা বলে, সেই শ্রেণিরই নেতা ছিলেন প্রতিকুর। গরীব মুসলমান প্রতিবার থেকে উঠে আসা এবং আর্থ-সামাজিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির তরুণ নেতা হিসেবে নিজেকে যথেষ্ট প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন প্রতিকুর। বাম মহলে লড়াকু হিসেবে শক্তিশালী পরিচিতি ছিল তাঁর। কিন্তু সেই তরুণ নেতাকে ধরে রাখতে ব্যর্থ সিপিএম। নিঃসন্দেহে ভোটের আগেই বড়সড় বিপর্যয় লাল ঝাণ্ডায়।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।