সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অর্পিতা সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গির সঙ্গে সম্পর্ক এবং নেতা-মন্ত্রীদের হানিট্র্যাপে ফেলার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
কলকাতা : সোজা কথায় যাকে বলে 'কেঁচো খুঁড়তে কেউটে'! পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF) জালে ধরা পড়েছে এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, নাম অর্পিতা সরকার। ২২ বছরের এই তরুণী আদতে একজন ইংরেজি অনার্সের গ্র্যাজুয়েট। কিন্তু তার আসল পরিচয় আরও গভীরে। অভিযোগ, সে জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গির প্রেমিকা এবং হানিট্র্যাপ চক্রের অন্যতম সদস্য। নিজের সৌন্দর্যকে হাতিয়ার করে নেতা-মন্ত্রীদের জালে ফেলাই ছিল তার কাজ। এবার একে একে সামনে আসছে সেই চাঞ্চল্যকর কাহিনি। জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের এক মন্ত্রীর ছেলেও তার নিশানায় ছিল।
ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জের বাসিন্দা ২২ বছরের অর্পিতা সরকার এখন খবরের শিরোনামে। বাইক রাইডিং, ভ্রমণ আর লাইফস্টাইল নিয়ে ভিডিও বানানো মেয়েটি যে একদিন পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি নেটওয়ার্কের তদন্তে উঠে আসবে, তা হয়তো কেউ ভাবেনি। প্রায় চার বছর আগে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে মহম্মদ হামিম মণ্ডল নামে এক যুবকের সঙ্গে আলাপ হয় অর্পিতার। সেই আলাপ প্রেমে গড়াতে বেশি সময় লাগেনি। কিন্তু হামিমের যোগাযোগ ছিল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে। অর্পিতাও সেই নেটওয়ার্কের অংশ হয়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হওয়া এই সম্পর্ক কি শুধুই প্রেম, নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও উদ্দেশ্য ছিল? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন দিনরাত এক করে তদন্ত চালাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স।
ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, অর্পিতা ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক। সোশ্যাল মিডিয়ায় মূলত ভ্রমণ, মোটরবাইক রাইডিং এবং লাইফস্টাইল নিয়ে কন্টেন্ট বানাত সে। ঝাড়খণ্ড ও কলকাতার মধ্যে তার ঘন ঘন যাতায়াত ছিল। এই যাতায়াতের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এই সময় সে কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করত, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
ডিজিটাল প্রমাণ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে। এসটিএফ জানিয়েছে, অভিযুক্তের সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাট এবং ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের মতে, দিল্লির জন্তর মন্তর এলাকায় অশান্তি ছড়ানো, পুলিশের উর্দি কেনা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনার উল্লেখ রয়েছে সেই চ্যাটে। এই দাবিগুলো যাচাই করার জন্য ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাও করা হচ্ছে।
শুধু প্রেমের গল্প নয়
অর্পিতা সরকারের গ্রেপ্তারের পর পুরো ঘটনা আর শুধু প্রেমের গল্পে সীমাবদ্ধ নেই। তদন্তকারী সংস্থাগুলো তার ডিজিটাল রেকর্ড, সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাট, ব্যাঙ্কের লেনদেন এবং ঝাড়খণ্ড ও কলকাতার মধ্যে ঘন ঘন যাতায়াতের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। আধিকারিকরা দাবি করছেন, প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু ডিজিটাল সূত্র মিলেছে, যা একটি বড় নেটওয়ার্কের দিকেই ইঙ্গিত করছে। তবে, এখনও পর্যন্ত ওঠা সমস্ত অভিযোগই তদন্তসাপেক্ষ এবং আদালতে এর সত্যতা প্রমাণ হওয়া বাকি। এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়া, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ব্যাঙ্ক লেনদেনের তদন্ত
অর্পিতা সরকারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল কার্যকলাপ, সোশ্যাল মিডিয়া কন্ট্যাক্ট এবং কলকাতা সফরের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, জিজ্ঞাসাবাদ এবং ইলেকট্রনিক প্রমাণের ভিত্তিতে আরও অনেক তথ্য সামনে আসতে পারে। বর্তমানে অর্পিতাকে পূর্ব বর্ধমানে আনা হয়েছে, যেখানে তাকে আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো মামলার প্রতিটি দিক খুঁটিয়ে দেখছে। তবে মনে রাখতে হবে, তদন্তকারী সংস্থাগুলোর সমস্ত দাবিই এখন বিচারসাপেক্ষ এবং আদালতের শুনানির পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে।


