উপাচার্যের ঘরের সামনে ধরনায় বসলেন সহ উপাচার্য। প্রকাশ্যেই তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়লেন দু' জন। টানা ধরনায় বসে থেকে শেষ পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন সহ উপাচার্য। শুক্রবার দিনভর এমনই টান টান নাটকের সাক্ষী থাকল কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবাংশু রায়কে ছুটিতে পাঠানো এবং তাঁকে পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে উপাচার্য ও সহ উপাচার্যের বিবাদ প্রকাশ্যে চলে আসে। উপাচার্য শঙ্কর কুমার ঘোষ রেজিস্ট্রারকে ছুটিতে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে পুনর্বহাল করেন সহ উপাচার্য। দু' জনেপ বিবাদ এদিন চরম পর্যায় পৌঁছয়।'

এ দিন দুপুর থেকেই রেজিস্ট্রারকে ছুটি পাঠানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে উপাচার্যের অফিস চত্বরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু অশিক্ষক কর্মীরা। আচমকাই সেখানে পোঁছন সহ উপাচার্য গৌতম পাল। তাঁর অভিযোগ, একটি ঘরে ঢুকে বিক্ষোভকারীদের দাবি নিয়ে কথা বলতে একটি ঘরে ঢোকার চেষ্টা করেন সহ উপাচার্য। অভিযোগ তখন উপাচার্যের দফতরের কর্মীরা এসে সহ উপাচার্যকে ঘরে ঢুকতে বাধা দেন। এরই প্রতিবাদে দুপুর থেকে উপাচার্যের ঘরের সামনে ধরনায় বসেন সহ উপাচার্য। উপাচার্য শঙ্করবাবু বেরিয়ে এলে তাঁর সঙ্গে প্রকাশ্যেই বিবাদে জড়িয়ে পড়েন গৌতমবাবু। এর পরেই উপাচার্যের বিরুদ্ধে টানা ধরনা শুরু করেন তিনি।

বিকেলের দিকেই টানা ধরনায় বসে থাকার ফলে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাঁকে দ্রুত কল্যাণীর জওহরলাল নেহেরু হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান ব্লাড সুগার এবং প্রেশার কমে গিয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েন সহ উপাচার্য।

সহ উপাচার্য গৌতমবাবুর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক এবং কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন উপাচার্য শঙ্কর কুমার ঘোষ। তিনি সমান্তরাল প্রশাসন চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন সহ উপাচার্য। যদিও উপাচার্য শঙ্কর কুমার ঘোষ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, জেদ ধরে তাঁর কাছে নিয়ম মেনে ঘর নেওয়ার আবেদন করছেন না সহ উপাচার্য। এ বিষয়ে যা বলার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেই তিনি বলবেন বলে জানিয়েছেন উপাচার্য শঙ্কর কুমার ঘোষ।