হারের আগেই হারের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। গত ২৫ নভেম্বর খড়গপুর বিধানসভা উপ-নির্বাচন শেষ হতেই জানিয়েছিলেন খড়গপুরের ভবিষ্যৎ। হাত বা কুষ্ঠি দেখারও প্রয়োজন হয়নি তাঁর। শুধু মুখ দেখেই বলে দিয়েছিলেন রেল শহরে উড়বে তৃণমূলের পতাকা।

নিজে বিধায়ক ছিলেন খড়গপুরের। সেকারণে রেল শহর একপ্রকার খাসতালুক দিলীপ ঘোষের। লোকসভা ভোটে বিজেপি ২ থেকে ১৮ হওয়ার পর তাই খড়গপুর সদর নিয়ে উদ্দীপনা ছিল বেশি। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের পরই সেই আশায় জল পড়ল। পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রথমবার জয় পেল তৃণমূল কংগ্রেস। কুড়ি হাজারেরও বেশি ভোটে জয় পেলেন তৃণমূলের প্রার্থী প্রদীপ সরকার। 

এই নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। যদিও খড়গপুরে নির্বাচনের পর ২৭টি বুথে পুননির্বাচনের দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। সেদিন মেদিনীপুরের সাংসদ বলেন ,এই ২৭টি বুথে ছাপ্পা ভোট করেছে তৃণমূল। বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে ভোট লুঠের চেষ্টা করেছে। যদিও স্থানীয় বিজেপি কর্মী সমর্থকরা সেই কাজ আটকে দিয়েছে । দিলীপবাবুর অভিযোগ, এদিন তৃণমূলের হয়ে ভোট করেছে পুলিশ বাহিনী। বিজেপিকে রুখে দিয়ে ভোট করানোর  চেষ্টা করেছে তাঁরা। কিন্তু শেষপর্যন্ত তারা সফল হয়নি। দুপুরের পর থেকেই ভোট দিতে পেরেছেন সাধারণ মানুষ। প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে খড়গপুরে। 

দিলীপ ঘোষের এই বক্তব্য শুনেই সেদিন খড়গপুরে বিজেপির হার নিশ্চিত বলেছিলেন এক রাজনৈতিক গণৎকার। টেলিভিশনে দিলীপের মুখ দেখেই বিধানসভার ফল পড়ে ফেলেছিলেন তিনি। অন্য কেউ নয়, রাজ্য রাজনীতির এই গণৎকারের নাম পার্থ চট্টোপাধ্যায়। একাধারে তৃণমূলের মহাসচিবও তিনি। সেদিন পার্থবাবুই বলেছিলেন, দিলীপের মুখে দেখে বোঝা যাচ্ছে, খড়গপুরে কিছু করতে পারেনি বিজেপি। বাস্তবেও দেখা গেল, পার্থবাবুই ঠিক।