ছোট থেকেই নাচের প্রতি ঝোঁক ছিল ছেলের। প্রথম প্রথম আপত্তি করলেও পরে সবকিছু মেনে নিয়েছিল পরিবার। কিন্তু সেই নাচের নেশাই যে শিলিগুড়ির মাটিগাড়া থেকে প্যারিসে পৌঁছে দেবে ছেলেকে, তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি দীপেশ চন্দ্র শর্মার পরিবার। 

স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এবার প্যারিসে পাড়ি জমাচ্ছে শিলিগুড়ির ছেলে উনিশ বছরের দীপেশ চন্দ্র বর্মা। সম্প্রতি তিনি প্যারিসের ম্যারিস ডান্স স্কুলের তরফে স্কলারশিপ পেয়েছেন। এর পরেই প্যারিস যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন দীপেশ। ব্যালে ড্যান্সার দীপেশ প্যারিসে গিয়েই তালিম নিয়ে নিজেকে বেলি ডান্সে আরও পারদর্শী করে তুলতে চান। দীপেশের স্বপ্ন, দেশ- বিদেশে ব্যালে ডান্সার হিসেবে পারফর্ম করে দেশের নাম উজ্জ্বল করবেন। 

দীপেশের স্বপ্নপূরণের এই পথ অবশ্য মোটেই সহজ ছিল না। শিলিগুড়ির অদূরে মাটিগাড়ার বাসিন্দা দীপেশ চন্দ্র বর্মা। তাঁর বাবা পেশায় মুদি দোকানি। সংসার চলে কোনওমতে। তবে শখ যে বড় বালাই, তা বলাই বাহুল্য। আর তাই ছোট থেকেই নুন আনতে পান্তা ফুরনোর সংসারে লুকিয়ে চুরিয়ে নাচের তালিম নিতে শুরু করেন দীপেশ। প্রথমদিকে পরিবারের অমত থাকলেও ছেলের অদম্য জেদের কাছে হার মানেন তাঁরা। অবশেষে নাচের অনুশীলনের জন্য মেলে ছাড়পত্র। ততদিনে ব্যালে ডান্সের প্রতিই আসক্ত হয়ে পড়ে দীপেশ। বেলি ডান্সের তালিম নিতে তিনি দিল্লি চলে যান। সেখান থেকেই পৌঁছে যান মুম্বই। 

একটি বেসরকারি সংস্থার তরফে স্কলারশিপ পাওয়ার পর গত দেড় বছর যাবৎ মুম্বইতেই ব্যালে ডান্সের অনুশীলনে মেতে রয়েছেন তিনি। এখন লক্ষ্য প্যারিস। চূড়ান্ত লক্ষ্য দেশের হয়ে কিছু করে দেখানো। 

দীপেশের বাবা উমেশ চন্দ্র বর্মা বলেন, 'ছেলেj ছোট থেকেই নাচে আগ্রহ ছিল। প্রথমদিকে নিজেই বাড়িতে অনুশীলন করত। এরপর শিলিগুড়িতে একটি নাচের অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করা হয় তাঁকে।

দীপেশের মা সুনেয়না বর্মা বলেন, ও নিজে নিজে বাড়িতেই অনুশীলন করত। পরে নাচের স্কুলে পাঠানো হয়। ইন্টারনেটে ভিডিও দেখেই ও অনুশীলন করত। সেই শুরু। আজ আমরা খুবই খুশি।'

দীপেশের দাদা বিশাল বর্মা বলেন, 'ইউটিউবে সোফিয়া লুসিয়ার ব্যালে ডান্সের ভিডিও দেখে ভাইয়ের নাচ শেখা শুরু ওর। প্রথমদিকে বাড়িতেই ভিডিও ডাউনলোড করে তা দেখে অনুশীলন করত। আসলে ওর প্যাশন ছিল ব্যালে ডান্স। অধ্যাবসয়ের জেরেই আজ এই সাফল্য। তবে কোনদিনও রিয়ালেটি শো'তে অংশ নিতে চায়নি ভাই।'

তবে দীপেশ কবে মুম্বই যাবে তা এখনও চূড়ান্ত নয়। ২০১৮ সালে বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চমাধ্যমিকে পাশ করার পরেও নাচের প্রতি আগ্রহ হারায়নি এই যুবক। ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'নাচ আমার প্যাশন। ছোট থেকেই স্বপ্ন ছিল ব্যালে ডান্সার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। তবে তেমন কোনও সুযোগ মেলেনি। এমনকী, আমাদের রাজ্যে সেভাবে কোনও প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে ব্যালে ডান্স শেখানো হয়। তাই দিল্লি হয়ে মুম্বইতে এসেছি। এখন লক্ষ্য প্যারিস। সেখানে ব্যালে ডান্সের অনুশীলন শেষে দেশ বিদেশে পারফরম্যান্স করার ইচ্ছে আছে। পাশাপাশি দেশের হয়েও কিছু একটা করতে চাই।