২০২৬-এর নির্বাচনে বাংলায় BJP-র জয়ের পর নতুন সরকার গঠনের তোড়জোড়। ৯ মে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ। কলকাতায় বড়সড় রাজনৈতিক পালাবদলের প্রস্তুতি তুঙ্গে, তবে কে হবেন মুখ্যমন্ত্রী, তা নিয়ে রহস্য জিইয়ে রাখা হয়েছে।

West Bengal oath ceremony 2026: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-র জয়ের পর এবার নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া আরও গতি পেয়েছে। দলের নেতৃত্ব ঘোষণা করেছে যে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আগামী ৯ মে অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠানকে রাজ্যের রাজনীতিতে একটি বড় পালাবদল হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে দীর্ঘদিনের ক্ষমতার কাঠামো এবার নতুন নেতৃত্বের হাতে যাবে।

Scroll to load tweet…

BJP-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই তারিখ নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে প্রস্তুতি একেবারে শেষ পর্যায়ে এবং শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান বড় আকারে আয়োজন করা হবে। তবে মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য দলের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সাসপেন্স আরও বেড়েছে।

Scroll to load tweet…

ক্ষমতার অলিন্দে তৎপরতা, CM-এর নামে রহস্য

নতুন সরকার গঠনের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? দলের অন্দরে বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপরেই ছাড়া হয়েছে। সূত্রের খবর, শপথগ্রহণের আগে বিধায়ক দলের বৈঠকে নেতা নির্বাচন করা হবে। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। বিরোধী দলগুলো পুরো প্রক্রিয়ার দিকে নজর রাখছে এবং তাদের দাবি, এই ক্ষমতা বদলের পর প্রশাসনিক দিকে বড়সড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

নির্বাচনী রায় এবং "বদলের" রাজনীতি

এই নির্বাচনে BJP বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে রাজ্যের ক্ষমতার অলিন্দে ঢুকেছে। দলের বক্তব্য, এই রায় আসলে "পরিবর্তন ও উন্নয়নের" এজেন্ডার ওপর মানুষের শিলমোহর। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। দলের নেতারা দাবি করছেন যে নতুন সরকার স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবে। অন্যদিকে, সমর্থকরা একে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে "নতুন যুগের সূচনা" বলে মনে করছেন।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি

৯ মে-র শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটিকে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। জাতীয় স্তরের বেশ কয়েকজন নেতা এবং বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। রাজধানী কলকাতায় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে বিপুল ভিড়ের সম্ভাবনা মাথায় রেখে বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আগামী দিনে সাসপেন্স আরও বাড়বে

মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা, নতুন মন্ত্রিসভার গঠন এবং প্রথম নীতিগত সিদ্ধান্ত—এই সব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। ৯ মে তারিখটি শুধুমাত্র একটি শপথগ্রহণের দিন নয়, এই দিনই ঠিক করে দেবে পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজনৈতিক দিশা কোন দিকে যাবে।