গোটা দেশে যখন এনআরসি চালু করতে চাইছে মোদীর সরকার, তখন উল্টো সুর খোদ কালিয়াগঞ্জের পরাজিত বিজেপি প্রার্থীর গলায়। গেরুয়াশিবিরের প্রার্থী কমলচন্দ্র সরকারের স্বীকারোক্তি, 'এনআরসি আমাদের আঘাত করেছে। মানুষ ভীত হয়ে গিয়েছে।  সেই আঘাত আমরা মেক-আপ করতে পারিনি।' কালিয়াগঞ্জে বিধানসভা উপনির্বাচনে ২ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তপন দেব সিংহ। 

অসমের মতো বাংলাতেও এনআরসি চালু হবে না তো? আতঙ্ক ছড়িয়েছে এ রাজ্যেও।  আতঙ্ক এতটাই যে, খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়ও আর ভরসা রাখতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। অসম লাগোয়া উত্তরবঙ্গে আতঙ্কটা সবচেয়ে বেশি।  উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ, জলপাইগুড়ি, ডুয়ার্সে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। 

গত লোকসভা ভোটে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরী। শুধু তাই নয়, মোদী সরকারের মন্ত্রীও হয়েছেন তিনি।  কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ৫৭ হাজার  ভোটে লিড পেয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী। বিধানসভা উপনির্বাচনে কিন্তু হিসেব উল্টো গেল। লোকসভা ভোটের লিডকে ছাপিয়ে কালিয়াগঞ্জে জয় ছিনিয়ে নিল তৃণমূল কংগ্রেস। হারতে চলেছে বুঝতে পেরে বৃহস্পতিবার গণনার শেষ হওয়ার আগে গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যান কালিয়াগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী কমলচন্দ্র সরকার। শেষপর্যন্ত দু'হাজারে কিছু বেশি ভোটে হেরে যান তিনি।  

কিন্তু লোকসভা ভোটে এগিয়ে থাকা আসনে কেন জিততে পারল না বিজেপি? কালিয়াগঞ্জে পরাজিত বিজেপি প্রার্থী কমলচন্দ্র সরকারের ব্য়াখ্যা, 'অসমে এনআরসিতে কী হয়েছে, মানুষ তা জানে না। তাঁদের বোঝানো হচ্ছে, বিজেপি এনআরসি করছে।  না হলে আমাদের এমন কোনও দূর্বলতা ছিল না যে, ওঁরা আমাদের আঘাত করবে। এনআরসিতে আঘাত করা হয়েছে। মানুষ ভীত হয়ে পড়েছে। '  বস্তুত কালিয়াগঞ্জে উপনির্বাচনে এনআরসিও যে ফ্যাক্টর ছিল, তা স্বীকার করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ী প্রার্থী তপন দেব সিংহও।

উল্লেখ্য, উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ বরাবরই কংগ্রেসের শক্তঘাঁটি। গত বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন দলের প্রবীণ নেতা প্রমথনাথ রায়। দীর্ঘ রোগভোগের পর মে মাসে প্রয়াত হন কালিয়াগঞ্জের কংগ্রেস বিধায়ক।