শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিজেপি-তে যোগদান রুখতে কোমর বেঁধে নেমেছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। কোনওভাবে শোভন বিজেপি-তে গেলেও যাতে  দল ভাঙাতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই বেহালায় দলের কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার প্রাক্তন মেয়রকে বোঝানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিক্ষামন্ত্রী এবং দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। 

এত কিছুর পরেও অবশ্য বেহালায় বিজেপি-র প্রভাব বিস্তার আটকানো যাচ্ছে না। শনিবারই বেহালার আদর্শপল্লিতে প্রায় পাঁচশো তৃণমূল কর্মী বিজেপি-তে যোগদান করেছিলেন। তার চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এ দিন ফের সেই একইন জায়গায় বেহালা অঞ্চলের আরও প্রায় দেড় হাজার তৃণমূল কর্মী বিজেপি-তে যোগ দিলেন। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের উপস্থিতিতেই এই যোগদান হলো। স্বভাবতই শোভনের গড় বেহালায় দলের এই ভাঙন তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে অবশ্যই অশনি সংকেত। যদিও প্রকাশ্যে তা স্বীকার করতে নারাজ শাসক দলের নেতারা। 

পর পর দু' দিন বেহালায় তৃণমূলের সংগঠনে ভাঙন ধরাতে পেরে স্বভাবতই উজ্জ্বীবীত বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি। সরাসরি শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নাম না নিলেও এ দিন বেহালার সভা থেকে দিলীপবাবু ফের দাবি করেন, তৃণমূলের বহু কাউন্সিলর এবং বিধায়করাই বিজেপি-তে যোগদানের জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তা আটকাতে তাঁদের বাড়ির সামনে পুলিশ প্রহরা বসিয়ে রেখেছেন। 

এর পাশাপাশি ভোটগুরু প্রশান্ত কিশোরের ভূমিকা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন দিলীপবাবু। তিনি বলেন, 'ভোটে জিতবার জন্য মুখ্যমন্ত্রী প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে চুক্তি করেছেন। কিন্তু তাঁর সরকারেরই তো এক্সপায়েরি ডেট শেষ হয়ে গিয়েছে!'

আরও পড়ুন- মুকুলের পথেই কি শোভন, জোড়া কৌশলে আটকানোর চেষ্টা তৃণমূলের

প্রসঙ্গত, তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে খবর, সম্প্রতি বিজেপি-র দুই সর্বভারতীয় নেতার সঙ্গে গোপন বৈঠক হয়েছে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের। দলের প্রায় চল্লিশজন কাউন্সিলরকে নিয়েও আলাদা বৈঠক করেছেন শোভন। আগামী বছর পুরভোটের আগে তাই শোভনকে ফের সক্রিয় করে দলে ফেরাতে মরিয়া তৃণমূল নেতৃত্ব।