Hooghly TMC: গত কয়েকদিন ধরেই জল্পনা চলছিল হুগলি সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি সুরেশ সাউ তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন। অবশেষে আজ ডানলপ মাঠে সর্বভারতীয় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিলেন সুরেশ সাউ।  

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের আগে হুগলি বিজেপিতে বড় ধাক্কা। রবিবার দলের জেলা সহ-সভাপতি সুরেশ সাউ তৃণমূলে যোগ দিলেন। তাঁর সঙ্গে হুগলি বিজেপির প্রায় এক ডজন দলীয় কর্মকর্তাও দলবদল করেছেন। হুগলির এক জনসভায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নেন সুরেশ সাউ। সুরেশ সাউয়ের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বিজেপি নেতা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন চুঁচুড়া মণ্ডলের সভাপতি বিবেক সাউ, বাঁশবেড়িয়া মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় এবং যুব মোর্চা ও কিষাণ মোর্চার একাধিক জেলা স্তরের নেতা।

অভিষেকের বার্তা

এই নেতাদের স্বাগত জানিয়ে এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে তৃণমূল। দলের তরফে বলা হয়, "আমরা তাঁদের প্রত্যেককে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। আমরা নিশ্চিত যে তাঁরা নিঃস্বার্থভাবে মানুষের সেবা করবেন। এই ঘটনা মা-মাটি-মানুষের সরকারের প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান সমর্থন এবং আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক, জনকেন্দ্রিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।"

হুগলিতে ভাঙন বিজেপির

রবিবার হুগলির ডানলপ মাঠে প্রার্থীদের সমর্থনে জনসভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । সেখানে সুরেশের হাতে তৃনমূলের দলীয় পতাকা তুলে দেন অভিষেক। তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশ ভট্টাচার্য সুরেশের গলায় উত্তরীয় পরিয়ে দেন। অভিষেকের সামনেই পুষ্পা সিনেমার ডায়লগ বলতে শোনা যায় সুরেশ কে।কেন্দ্র সরকারের বঞ্চনার বিরুদ্ধে অভিষেকের লড়াইকে তিনি পুষ্পা সিনেমার হিরো আল্লু অর্জুনের বিখ্যাত ডায়লগের সঙ্গে তুলনা করেন।তিনি বলেমন,ঝুকেগা নেহি। সুরেশ আরো বলেন, অনেক কষ্ট করে দলটা করছিলাম কিন্তু আমাদের মত কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে । তাই আমরাই যদি প্রতারিত হই সাধারণ মানুষের সঙ্গে কেমন প্রতারণা করা হয়েছে । ভেবেছিলাম ভুল থেকে শিক্ষা নেবে কিন্তু একের পর এক ভুল করেই যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে কর্মীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে । হুগলিতে একটা আসন ও বিজেপি পাবে না। আগামী দিনে বিজেপিতে পতাকা ধরার লোক থাকবে না আরো অনেকে তৃণমূলের পতাকা ধরবে।

পাল্টা দাবি বিজেপির

যদিও সুরেশের চলে যাওয়াকে আপদ বিদায় হয়েছে বলে মনে করেন চুঁচুড়ার তৃনমূল প্রার্থী সুবীর নাগ।সুবীর নাগ বলেন,লোকসভা ভোটের আগে থেকে দলবিরোধী কাজ করেছে। লকেট চট্টোপাধ্যায় হারার জন্য ওই মূল দায়ী। ওর অনেকদিন আগে থেকে তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল আমরা অনেক আগেই জানতাম। বেড়ার বাড়ি আজ অট্টালিকা হয়েছে কিভাবে হলো? দল ভাঙিয়ে। ফাঁকা কলসি। কিছুই নেই। এর আগেও তৃণমূলের যোগ দেওয়ার জন্য পা বাড়িয়েছিল কিন্তু তখন যায়নি। ও দলের ক্ষতি করেছে।সুরেশ চলে যাওয়ায় দলের কোনো ক্ষতি হবে না। সুবীর বলেন,দলের একটা অংশকে দুর্বল করার কাজ করছিল।সব জেনেও দল কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কেন? কিছু নিশ্চই বাধ্য বাধকতা ছিল। যারা তৃনমূলের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে আমাদের দলে ছিল তারা কয়েকজন চলে গেছে।এতে দলের ভালোই হবে।