ছেলের নাবালিকা বান্ধবীকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার সময় তাকে যৌন নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির অভিযোহ উঠল এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে।  ঘটনায় অভিযুক্ত ওই বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে বিনপুর থানার পুলিশ। ধৃতের চার দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে ঝাড়গ্রাম আদালত। 

অভিযুক্ত ওই বিজেপি নেতার নাম চিন্ময় মণ্ডল। তিনি ঝাড়গ্রাম জেলায় বিজেপি-র এসসি মোর্চার জেলা সভাপতি। তিনি বিনপুর থানার শিলদা এলাকার বাসিন্দা। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকা। প্রবল অস্বস্তিতে পড়েছে জেলা বিজেপি নেতৃত্বও। 

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার চিন্ময় মণ্ডলের ছেলের জন্মদিন ছিল। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে নিজের বান্ধবী এক প্রতিবেশী কিশোরীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল চিন্ময়বাবুর ছেলে ৷ কিশোরীর বাবা তাকে বিজেপি নেতার বাড়িতে সন্ধ্যায় পৌঁছে দিয়ে যায়। অনুষ্ঠান শেষ হলে তাঁকে ফোন করে জানানোর জন্য চিন্ময়বাবুকে অনুরোধ করেন ওই কিশোরীর বাবা। কিন্তু অনেক রাত হয়ে যাওয়ার পরেও ফোন না আসায় কিশোরীর বাবা মেয়েকে আনতে বিজেপি নেতার বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, একটু আগেই তাঁর মেয়েকে গাড়িতে করে পৌঁছনোর জন্য বেরিয়ে গিয়েছে চিন্ময় মণ্ডল।

সেখান থেকে বাড়িতে ফিরে এসে ওই ব্যক্তি দেখেন তখনও মেয়েকে নিয়ে পৌঁছয়নি ওই বিজেপি নেতা। তখন তিনি চিন্ময় মণ্ডলকে ফোন করেন। অভিযোগ, সেই সময় চিন্ময় মণ্ডল একটি নির্জন মাঠে ওই কিশোরীকে নিয়ে গিয়ে তার শ্লীলতাহানি এবং যৌন নির্যাতন চালাচ্ছিল। চিন্ময়বাবু তার বাবার ফোন ধরতেই চিৎকার করে সাহায্য চায় ওই কিশোরী। সে কোথায় রয়েছে এবং ওই বিজেপি নেতা যে তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করছে, তাও বলে দেয় সে। 

মেয়ের চিৎকার শুনে দ্রুত বাইক নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিজেপি নেতাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে কিশোরীর বাবা। আশপাশের বাসিন্দারাও জড়ো হয়ে যান। নির্জন মাঠে গাড়ি নিয়ে সে কী করছিল, এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি চিন্ময়।  গাড়ি ছেড়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধরে ফেলে জনতা। পরে বিনপুর থানার পুলিশ গিয়ে অভিযুক্ত চিন্ময় মন্ডলকে গ্রেফতার করে ।মঙ্গলবার অভিযুক্তকে ঝাড়গ্রাম আদালতে তোলা হলে বিচারক তদন্তের জন্য অভিযুক্তের চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকেই গোটা শিলদা এলাকায় বিজেপি নেতা অভিযুক্ত চিন্ময় মন্ডলের নামে উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে পোস্টার পড়ে।  এ বিষয়ে বিজেপির জেলা সভাপতি সুখময় শতপথী বলেন, 'ঘটনার সত্য মিথ্যা আমি জানি না। তবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হোক। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে আইনগত ভাবে তার শাস্তি হোক।' অভিযুক্ত বিজেপি নেতার আইনজীবী তপন সিনহা, 'আমার মক্কেলকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।'