উত্তরবঙ্গে যখন এনআরসি আতঙ্কে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে, তখন জলপাইগুড়িতে এক বাংলাদেশি মহিলাকে ভুয়ো আধার কার্ড তৈরিতে সাহায্যের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এক বিজেপি নেতা। শুধু তাই নয়, এই কাজে তিনি আবার খোদ বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের শংসাপত্রও ব্যবহার করেছিলেন বলে অভিযোগ। ধৃতকে সাতদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

ধৃত বিজেপি নেতার নাম রবি কুমার। পশ্চিম মেদিনীপুরে দলের ক্লাব ও স্পোর্টস সেলে আহ্বায়ক তিনি। গেরুয়া শিবিরে তিনি রাজ্য় সভাপতি দিলীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন,  দিলীপ ঘোষ যখন পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুরের বিধায়ক ছিলেন, তখন তাঁর একটি শংসাপত্র জোগাড় করেন রবি।  আর সেই শংসাপত্র ব্যবহার করেই এক বাংলাদেশি মহিলাকে ভুয়ো আধার কার্ড তৈরিতে ওই বিজেপি নেতা সাহায্য করেছেন বলে অভিযোগ। পশ্চিম মেদিনীপুরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে জলপাইগুড়ির কোতুয়ালি থানার পুলিশ। ধৃতকে আনা হয়েছে জলপাইগুড়িতে। 

গত ১৬ জুলাই জলপাইগুড়ি শহরের একটি পানশানায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে কোতুয়ালি থানার পুলিশ। গ্রেফতার হন ওই পানশালার কর্মী সৌমেন বাইন ও তাঁর স্ত্রী পুষ্পা রায়ও। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কাজের সুবাদে স্ত্রীকে নিয়ে জলপাইগুড়িতে থাকতেন সৌমেন। তাঁর আসল বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরে। এদিকে পানশালায় অভিযান চালানোর সময়ই  পুষ্পা রায়ের আধার কার্ডটি পুলিশের হাতে আসে।  তদন্তে জানা যায়, পুষ্পা বাংলাদেশের নাগরিক। তাঁর আধার কার্ডটি জাল। 

কিন্তু ভারতে জাল আধার কার্ড কীভাবে তৈরি করলেন ওই বাংলাদেশী মহিলা? তদন্তকারীরা জানিয়েছেন,  পুষ্পার স্বামী সৌমেন বাইনের সঙ্গে পরিচয় ছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের বিজেপি নেতা রবি কুমারের। দিলীপ ঘোষের শংসাপত্র ব্যবহার করে সৌমেনের বাইনের স্ত্রী পুষ্পার জাল আধার কার্ড তৈরিতে সাহায্য করেছেন ওই বিজেপি নেতা। শেষপর্যন্ত পশ্চিম মেদিনীপুরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করে জলপাইগুড়ির কোতুয়ালি থানার পুলিশ।