BJP manifesto 2026 for Bengal: বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিজেপির ইশতেহার প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নিউটাউনের একটি হোটেলে তিনি বিজেপির সংকল্পপত্র প্রকাশ করেন। ইশতেহারে বিজেপির তরফে রাজ্যবাসীকে ১৫টি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
BJP Manifesto For West Bengal Assembly Election 2026: বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিজেপির ইশতেহার প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নিউটাউনের একটি হোটেলে তিনি বিজেপির সংকল্পপত্র প্রকাশ করেন। ইশতেহারে বিজেপির তরফে রাজ্যবাসীকে ১৫টি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে মহিলাদের মাসে আর্থিক সাহায্য, বেকার ভাতা। রয়েছে উত্তরবঙ্গের জন্য নানা ঘোষণা। ইশতেহার প্রকাশ করার আগে অমিত শাহ বলেন, "বাঙালি নববর্ষের দিন সঙ্কল্পের সঙ্গে আমাদের প্রচারের যাত্রা শুরু হবে। তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের দুঃস্বপ্ন ঘুচবে। আগামী পাঁচ বছরে বিজেপি সরকার এ রাজ্যের বিকাশের রাস্তা খুলবে। রোজগারের ভরসা। সোনার বাংলা তৈরি করব আমরা। আমার বিশ্বাস, বাংলার জনতা আমাদের এখানে পাঁচ বছরের জন্য সরকার তৈরির সুযোগ দেবেন। আমরা সেই ভরসার ভিত্তিতে রাজ্যের পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করব।"
কী কী রয়েছে বিজেপি ইশতেহারে
- জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলার অবক্ষয়ের খতিয়ান তুলে ধরতে একটি বিশেষ 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করা হবে।
- 'কাট মানি' সংস্কৃতির সিন্ডিকেট রাজ নির্মূল করা হবে।
- সমস্ত সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য কেন্দ্রীয়হারে মহার্ঘ ভাতা নিশ্চিত করা হবে এবং সপ্তম বেতন কমিশন বাস্তবায়ন করা হবে।
- আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি মানুষের জন্য নতুন চাকরি ও স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে এবং বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে ৩০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা
- হবে।
- মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য থাকবে বিশেষ মহিলা পুলিশ ব্যাটালিয়ন, 'দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড'। রাজ্যের সমস্ত সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।
- মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
- ধান, আলু ও আম চাষে বিশেষ সরকারি সাহায্য এবং কৃষকদের জন্য ফসলের ন্যায্য মূল্য সুনিশ্চিত করা হবে।
- রাজ্যের প্রতিটি মৎস্যজীবীকে 'প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা'র অধীনে নথিভুক্ত করা হবে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পশ্চিমবঙ্গকে একটি শীর্ষস্থানীয় শিল্প কেন্দ্র এবং দেশের অন্যতম প্রধান মাছ রপ্তানিকারক রাজ্যে উন্নীত করা হবে।
- অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) বাস্তবায়নের জন্য আইন প্রণয়ন করা হবে এবং গবাদিপশু পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- পুরনো চা বাগানগুলির উন্নয়ন, দার্জিলিং চা-এর বিশ্বজনীন ব্র্যান্ডিং এবং পাটশিল্পের আধুনিকীকরণ করা হবে।
- ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফসিলে কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
- আয়ুষ্মান ভারত যোজনার বাস্তবায়নসহ সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প চালু করা হবে, মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে এইচপিভি টিকাকরণ ও স্তন ক্যান্সার পরীক্ষা চালু করা হবে।
- উত্তরবঙ্গে একটি নতুন 'এইমস' নির্মাণ করা হবে এবং উত্তরবঙ্গে নতুন আইআইটি ও আইআইএম ক্যাম্পাস স্থাপন করা হবে।
- একটি বিশেষ 'বন্দে মাতরম্ সংগ্রহশালা' তৈরি করা হবে।
- ধর্মাচরণের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আইন বলবৎ করা।
ইশতেহারে আরও কী কী ঘোষণা
- উত্তরবঙ্গে একটি ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করা হবে। কৃষকদের ধানের মূল্য নির্দিষ্ট করা হবে।
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যুবদের ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
- রাজ্যে চারটি নতুন উপনগরী তৈরি করা হবে।
- মহিলাদের জন্য ১০০ শতাংশ বিনা শুল্ক পরিবহণ নিশ্চিত করবে বিজেপি সরকার। সন্দেশখালির মতো ঘটনা আটকাতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণে তদন্ত হবে। রাজ্যের সব চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হবে। সব মণ্ডলে মহিলা থানা থাকবে। প্রতি পুলিশ জেলায় মহিলা ডেস্ক থাকবে।
- তাজপুর, কুলপিতে বিশেষ ডিপ সি পোর্ট তৈরির পরিকল্পনা। চা এবং পাট শিল্পেও জোর দেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গকে ব্লু ইকনমির প্রধান রফতানি ক্ষেত্র বানানো হবে বলে জানান শাহ।
- চৈতন্য মহাপ্রভু আধ্যাত্মিক সার্কিটের উন্নয়ন হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরি করা হবে। থিয়েটারের জন্য আধুনিক ইনস্টিটিউট তৈরি করা হবে।
দার্জিলিংকে হেরিটেজ পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে বিবেচনা করা হবে। পর্যটন শিল্পে জোর দেওয়া হবে। কলকাতাকে সারা বিশ্বের সামনে ‘লিভিং সিটি’ হিসাবে প্রকাশ করা হবে।
